• ১১ আশ্বিন ১৪৩৩, বুধবার ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ই-পোর্টাল

Janatar Katha

Banner Add
  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও
  • এছাড়াও
    • উৎসব
    • ব্যবসা
    • স্বাস্থ্য
    • শিক্ষা
    • প্রযুক্তি
    • হেঁসেল

Lionel Messi

খেলার দুনিয়া

২০ বছরের মহাকাব্যের শেষ! হঠাৎই জাতীয় দলকে বিদায় মেসির, স্তব্ধ ফুটবল বিশ্ব

কয়েক দিন ধরেই জল্পনা চলছিল। শেষ পর্যন্ত সেই আশঙ্কাই সত্যি হল। আর্জেন্টিনার জাতীয় দল থেকে অবসরের সিদ্ধান্ত নিলেন ফুটবলের মহাতারকা লিওনেল মেসি। দেশের জার্সিতে প্রায় দুই দশকের দীর্ঘ যাত্রার পর এবার আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় জানালেন তিনি।মেসির অবসর নিয়ে কয়েক দিন ধরেই জল্পনা চলছিল। বাবার মৃত্যুর পর তিনি মানসিক ভাবে ভেঙে পড়েছিলেন। ফুটবল থেকেও তাঁর মন কিছুটা সরে গিয়েছিল বলে আলোচনা শুরু হয়। যদিও তাঁর সাম্প্রতিক পারফরম্যান্সে অবসরের কোনও স্পষ্ট ইঙ্গিত পাওয়া যায়নি। ইন্টার মায়ামির হয়ে মাত্র কয়েক দিন আগেই চারটি গোল করেছিলেন মেসি। সেই ম্যাচে তাঁর দল সাত-শূন্য ব্যবধানে জয় পায়।তার পরেও আচমকাই এল বড় ঘোষণা। মেসি জানিয়েছেন, বিশ্বকাপের ফাইনালের পর নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে দীর্ঘ সময় চিন্তাভাবনা করেছেন। শেষ পর্যন্ত জাতীয় দল থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি। নিজের সবটুকু দিয়ে আর্জেন্টিনার হয়ে খেলেছেন বলেও জানিয়েছেন এই তারকা।মেসির এই সিদ্ধান্ত মানে আর্জেন্টিনার ফুটবলের একটি দীর্ঘ অধ্যায়ের অবসান। দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে দেশের জার্সিতে একের পর এক স্মরণীয় মুহূর্ত উপহার দিয়েছেন তিনি। কখনও সাফল্য এসেছে, কখনও এসেছে হতাশা। একাধিকবার বিশ্বকাপের স্বপ্নভঙ্গ হলেও শেষ পর্যন্ত ২০২২ সালে সেই অধরা ট্রফি নিজের হাতে তুলেছিলেন মেসি।আর্জেন্টিনার হয়ে তাঁর আন্তর্জাতিক অভিষেক হয়েছিল ২০০৫ সালের ১৭ অগস্ট হাঙ্গেরির বিরুদ্ধে। দীর্ঘ কেরিয়ারে দেশের হয়ে শতাধিক গোল করেছেন তিনি। বিশ্বকাপে ছবার অংশ নিয়েছেন। ২০২২ সালে বিশ্বকাপ জয়ের পাশাপাশি দুবার বিশ্বকাপের সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কারও পেয়েছেন।বিশ্বকাপের মঞ্চেও মেসির একাধিক নজির রয়েছে। সবচেয়ে বেশি বিশ্বকাপের ম্যাচ খেলার রেকর্ড তাঁর দখলে। বিশ্বকাপে একাধিক ম্যাচে গোল ও সহায়তার মাধ্যমে দলকে এগিয়ে নিয়ে গিয়েছেন তিনি। টানা নয়টি বিশ্বকাপের ম্যাচে গোল করার নজিরও রয়েছে তাঁর নামে।মেসির আন্তর্জাতিক কেরিয়ারে শুধু সাফল্য নয়, রয়েছে দীর্ঘ লড়াইয়ের ইতিহাসও। একসময় কোপা আমেরিকার ফাইনালে পরপর ব্যর্থতা তাঁকে ভেঙে দিয়েছিল। কিন্তু সেই হতাশা কাটিয়ে শেষ পর্যন্ত আর্জেন্টিনাকে কোপা আমেরিকা এবং বিশ্বকাপ জিতিয়েছেন তিনি।এবার সেই জাতীয় দলকেই বিদায় জানালেন মেসি। তাঁর সিদ্ধান্তে আর্জেন্টিনার ফুটবলে যে বিশাল শূন্যতা তৈরি হবে, তা বলার অপেক্ষা রাখে না। তবে দেশের জার্সিতে তাঁর অধ্যায় শেষ হলেও ক্লাব ফুটবলে এখনও তাঁকে মাঠে দেখা যেতে পারে। ফলে মেসির ফুটবলযাত্রা পুরোপুরি শেষ হচ্ছে না, শেষ হচ্ছে শুধু আর্জেন্টিনার জার্সিতে তাঁর মহাকাব্যিক অধ্যায়।

আগস্ট ৩১, ২০২৬
খেলার দুনিয়া

‘মেসি’ হয়ে ওঠার নেপথ্যের মানুষ আর নেই, প্রয়াত জর্জ মেসি

৬৮ বছর বয়সে প্রয়াত হলেন লিওনেল মেসির বাবা জর্জ মেসি। দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ ছিলেন তিনি। শুক্রবার রাতে আর্জেন্টিনার রোজারিও শহরের একটি চিকিৎসাকেন্দ্রে তাঁর মৃত্যু হয়েছে বলে মেসির পরিবারের তরফে নিশ্চিত করা হয়েছে। তাঁর মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে ফুটবল মহলেজর্জ মেসি শুধু লিওনেল মেসির বাবা ছিলেন না, ছেলের দীর্ঘদিনের এজেন্ট ও পরামর্শদাতাও ছিলেন। মেসির ফুটবলজীবনের শুরু থেকে তাঁর পাশে ছিলেন জর্জ। ছেলের প্রতিভার উপর আস্থা রেখে ছোটবেলা থেকেই তাঁকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছিলেন তিনি।রোজারিওতেই ছোটবেলায় ফুটবলের হাতেখড়ি হয়েছিল মেসির। নিউওয়েলস ওল্ড বয়েজের যুব দলে খেলার সময় তাঁর প্রতিভা নজর কাড়ে। শারীরিক বৃদ্ধির জন্য হরমোনের চিকিৎসার প্রয়োজন ছিল মেসির। সেই পরিস্থিতিতে ছেলের ভবিষ্যতের কথা ভেবে জর্জই তাঁকে নিয়ে স্পেনে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। পরে বার্সেলোনায় মেসির ফুটবলজীবনের নতুন অধ্যায় শুরু হয়।ছেলের সঙ্গে বার্সেলোনায় থেকেছেন জর্জ। মেসির পেশাদার জীবনের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তগুলির সঙ্গেও জড়িয়ে ছিলেন তিনি। পরবর্তী সময়ে বার্সেলোনা থেকে প্যারিস সাঁ জাঁ এবং ইন্টার মায়ামিমেসির ক্লাবজীবনের নানা গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে বাবার ভূমিকা ছিল উল্লেখযোগ্য।শুধু ফুটবল নয়, মেসির ব্যক্তিগত জীবনেও বাবার প্রভাব ছিল গভীর। কঠিন সময়েও জর্জ ছেলের পাশে থেকেছেন। তাই মেসির জীবনে জর্জ ছিলেন একইসঙ্গে বাবা, অভিভাবক, পরামর্শদাতা এবং দীর্ঘদিনের পেশাদার প্রতিনিধি।চলতি বছর বিশ্বকাপের সময় থেকেই জর্জের অসুস্থতার খবর সামনে আসতে শুরু করেছিল। মেসিও একসময় জানিয়েছিলেন, ব্যক্তিগত জীবনের নানা কারণে তিনি কঠিন সময়ের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছেন। পরে দীর্ঘ অসুস্থতার সঙ্গে লড়াই শেষ হল জর্জ মেসির।মেসির ফুটবলজীবনের উত্থানের সঙ্গে জর্জের নাম ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে রয়েছে। ছেলের প্রতিভায় বিশ্বাস রেখে যে মানুষটি তাঁর পথচলার শুরু থেকে পাশে ছিলেন, তাঁর প্রয়াণে মেসির জীবনে তৈরি হল এক গভীর শূন্যতা। ফুটবল দুনিয়াতেও নেমে এসেছে শোকের আবহ।

আগস্ট ০৮, ২০২৬
দেশ

‘ধন্যবাদ, ভারত!’ বিশ্বকাপ হারলেও ভারতীয় সমর্থকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানালেন আর্জেন্টিনার রাষ্ট্রদূত

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর ফাইনালে স্পেনের কাছে হৃদয়ভাঙা পরাজয়ের পরও ভারতীয় ফুটবলপ্রেমীদের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করলেন ভারতে নিযুক্ত আর্জেন্টিনার রাষ্ট্রদূত মারিয়ানো কাউচিনো। সামাজিক মাধ্যম এক্স (X)-এ এক আবেগঘন বার্তায় তিনি ভারতীয় সমর্থকদের ধন্যবাদ জানিয়ে লেখেন, আর্জেন্টিনা দলের প্রতি এই বিশ্বকাপ জুড়ে ভারতীয় মানুষের অকুণ্ঠ সমর্থনের জন্য আমি গভীরভাবে কৃতজ্ঞ। আবারও ধন্যবাদ, ভারত!বিশ্বকাপে শিরোপাধারী হিসেবে অভিযান শুরু করেছিল আর্জেন্টিনা। টানা দ্বিতীয়বারের মতো ফাইনালে পৌঁছেও শেষ পর্যন্ত ট্রফি ধরে রাখা সম্ভব হয়নি। যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ফাইনালে অতিরিক্ত সময়ে ১-০ গোলে স্পেনের কাছে পরাজিত হয় লিওনেল মেসির দল।ম্যাচের একমাত্র এবং জয়সূচক গোলটি করেন ফেরান তোরেস, অতিরিক্ত সময়ের ১০৬তম মিনিটে। এই জয়ে ২০১০ সালের পর দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বচ্যাম্পিয়নের মুকুট জেতে স্পেন।পুরো ম্যাচে বলের দখল এবং আক্রমণে আধিপত্য ছিল স্পেনের। অন্যদিকে আর্জেন্টিনাকে বহুবার রক্ষা করেন গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্তিনেজ, যিনি একাধিক দুর্দান্ত সেভ করে দলকে লড়াইয়ে টিকিয়ে রাখেন।Deeply grateful to the Indian People for the endless displays of support for the Argentine team during this latest World Cup. Thank you, India, once again! pic.twitter.com/kd9hmTBnON Mariano Caucino (@CaucinoMariano) July 20, 2026তবে ম্যাচের শেষদিকে বড় ধাক্কা খায় আর্জেন্টিনা। নির্ধারিত সময়ের যোগ করা মিনিটে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন এনজো ফার্নান্দেজ, ফলে অতিরিক্ত সময়ে ১০ জন নিয়ে খেলতে হয় মেসিদের।অতিরিক্ত সময়ে প্রথমে নিকো উইলিয়ামস গোল করলেও ফাউলের কারণে তা বাতিল হয়। এরপর কিছুক্ষণের মধ্যেই উইলিয়ামসের পাস থেকে ফেরান তোরেস জোরালো শটে বল জালে জড়িয়ে স্পেনকে বিশ্বকাপ এনে দেন।এই জয়ের ফলে আন্তর্জাতিক ফুটবলে স্পেনের অপরাজিত থাকার রেকর্ড বেড়ে দাঁড়ায় ৩৮ ম্যাচে, যা ইউরোপীয় ফুটবলের ইতিহাসে নতুন নজির। একইসঙ্গে ৬৪ বছর পর বিশ্বকাপ শিরোপা সফলভাবে ধরে রাখার আর্জেন্টিনার স্বপ্নও ভেঙে যায়।তবুও গোটা টুর্নামেন্টে ভারতীয় সমর্থকদের বিপুল ভালোবাসা ও সমর্থন পেয়েছে আর্জেন্টিনা। বিশেষ করে লিওনেল মেসিকে ঘিরে ভারতের ফুটবলপ্রেমীদের আবেগ বরাবরের মতোই নজর কেড়েছে। সেই ভালোবাসার স্বীকৃতি দিতেই বিশ্বকাপ শেষ হতেই ভারতীয় সমর্থকদের উদ্দেশে কৃতজ্ঞতার বার্তা দেন রাষ্ট্রদূত মারিয়ানো কাউচিনো।বিশ্বকাপ জয় হাতছাড়া হলেও, ভারত ও আর্জেন্টিনার ফুটবল-সম্পর্ক যে আরও গভীর হয়েছে, রাষ্ট্রদূতের এই বার্তাই যেন তারই প্রমাণ।

জুলাই ২০, ২০২৬
খেলার দুনিয়া

কাঁদতে কাঁদতে মাঠ ছাড়লেন মেসি, আর্জেন্টিনার আবেগঘন পোস্টে কি লুকিয়ে অবসরের ইঙ্গিত?

ফাইনালে আর্জেন্টিনার হার শুধু সমর্থকদেরই হতাশ করেনি, কাঁদিয়েছে অধিনায়ক লিওনেল মেসিকেও। একপেশে ম্যাচে পরাজয়ের পর মাঠ ছাড়ার সময় মেসিকে দেখা যায় সম্পূর্ণ নীরব অবস্থায়। তাঁর চোখে জল ছিল স্পষ্ট, কিন্তু মুখে কোনও কথা ছিল না। সাংবাদিক সম্মেলনেও তিনি হাজির হননি। এরপর থেকেই জোর জল্পনা শুরু হয়েছে, আর্জেন্টিনার জার্সিতে এটাই কি মেসির শেষ আন্তর্জাতিক ম্যাচ?এই জল্পনায় নতুন করে আগুন জ্বালিয়েছে আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন -এর একটি আবেগঘন পোস্ট। সেখানে দেখা যায়, গলায় রানার্স-আপের পদক ঝুলিয়ে কোমরে হাত রেখে দাঁড়িয়ে আছেন মেসি। তাঁর চোখে জল স্পষ্ট ধরা পড়েছে। সেই ছবির সঙ্গে সংস্থাটি লিখেছে, অধিনায়ক, তোমার কান্না আমাদেরও কাঁদায়। তুমি আমাদের জীবনের সেরা আনন্দ দিয়েছ। দেশের জন্য তোমার নিষ্ঠা, জাদু এবং শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত লড়াইকে সেলাম। তোমাকে সারা জীবন ভালোবাসব, লিও। সব কিছুর জন্য ধন্যবাদ।এই বার্তাকে ঘিরেই ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে তীব্র আলোচনা শুরু হয়েছে। অনেকের মতে, সংস্থার এই পোস্টে যেন মেসির আন্তর্জাতিক কেরিয়ারের ইতি টানার ইঙ্গিত রয়েছে। যদিও এখনও পর্যন্ত মেসি নিজে আনুষ্ঠানিকভাবে অবসরের ঘোষণা দেননি।এদিকে আরেকটি সম্ভাবনার কথাও শোনা যাচ্ছে। সূত্রের খবর, আর্জেন্টিনার মাটিতে একটি বিশেষ প্রীতি ম্যাচের আয়োজন করা হতে পারে। সেই ম্যাচেই দেশের সমর্থকদের সামনে আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় জানাতে পারেন মেসি। তবে এ বিষয়ে এখনও কোনও সরকারি ঘোষণা হয়নি।ফাইনালের পর মেসির ভবিষ্যৎ নিয়ে কথা বলেছেন আর্জেন্টিনার কোচ। তিনি বলেন, এখন ওর বয়স উনচল্লিশ। অবিশ্বাস্য। ওর থেকে নতুন কিছু বার করার নেই। আগেও বলেছি, আজও বলছি, মেসি যত দিন চাইবে তত দিন খেলতে পারে। সমর্থক, সতীর্থ, সবাই ওর পাশে থাকবে। ও যা অর্জন করেছে, তাতে নিঃসন্দেহে সে বিশ্বের সর্বকালের সেরা ফুটবলারদের একজন।এখন ফুটবল বিশ্ব অপেক্ষা করছে, মেসি অবসর নিয়ে মুখ খোলেন কি না। আর যদি সত্যিই দেশের মাটিতে বিদায়ী প্রীতি ম্যাচ হয়, তবে সেটিই হতে পারে আর্জেন্টিনার সমর্থকদের কাছে এক ঐতিহাসিক মুহূর্ত।

জুলাই ২০, ২০২৬
খেলার দুনিয়া

বিশ্বকাপ ফাইনালের আগে মেসিকে নিয়ে বড় রহস্য! কোচের দুই শব্দে তোলপাড় ফুটবল দুনিয়া

বিশ্বকাপের আগে লিওনেল মেসির ভবিষ্যৎ নিয়ে নানা জল্পনা তৈরি হয়েছিল। অনেকেই মনে করেছিলেন, হয়তো এটাই তাঁর শেষ বিশ্বকাপ হতে চলেছে (Fifa World Cup)। কিন্তু সব জল্পনার অবসান ঘটিয়ে মেসি শুধু খেলেনই না, নিজের নেতৃত্বে আর্জেন্টিনাকে আরও একটি বিশ্বকাপের ফাইনালে তুলে আনেন। এবার নতুন প্রশ্ন, স্পেনের বিরুদ্ধে ফাইনাল কি দেশের জার্সিতে তাঁর শেষ ম্যাচ?ফাইনালের আগে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে আর্জেন্টিনার কোচ লিওনেল স্কালোনির কাছে এই প্রশ্ন রাখা হয়েছিল। তবে তিনি সরাসরি কোনও উত্তর দেননি। শুধু বলেন, লিওকে জিজ্ঞাসা করুন। এই সংক্ষিপ্ত মন্তব্যেই নতুন করে জল্পনা শুরু হয়েছে ফুটবল মহলে (Fifa World Cup)।এরপর অবশ্য মেসির ভূয়সী প্রশংসা করেন স্কালোনি। তাঁর কথায়, মেসি এখন শুধু একজন ফুটবলার নন, তিনি ফুটবল ইতিহাসের অংশ। ৩৯ বছর বয়সেও বিশ্বকাপের ফাইনালে দলকে নেতৃত্ব দেওয়া অবিশ্বাস্য কৃতিত্ব। স্কালোনি বলেন, যতদিন মেসি মাঠে আছেন, ততদিন তাঁর খেলা উপভোগ করাই সবচেয়ে বড় বিষয়। এই দলের সঙ্গে মেসি যা অর্জন করেছেন, তা ফুটবল ইতিহাসে চিরকাল স্মরণীয় হয়ে থাকবে (Fifa World Cup)।ফাইনালের আগে প্রতিযোগিতার সূচি নিয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন আর্জেন্টিনা কোচ। তাঁর অভিযোগ, নিউ ইয়র্কে পৌঁছানোর পর পর্যাপ্ত বিশ্রামের সুযোগ না দিয়েই দুপুরের গরমে অনুশীলনের সময় নির্ধারণ করা হয়েছে। এতে দলের প্রস্তুতিতে সমস্যা হয়েছে বলে দাবি তাঁর। স্কালোনির মতে, টুর্নামেন্টের শেষ দিকে খেলোয়াড়দের বিশ্রাম সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন হলেও বাস্তবে উল্টো পরিস্থিতির মুখে পড়তে হয়েছে।এদিকে, ব্রাজিলের কাফুর পর বিশ্বের দ্বিতীয় ফুটবলার হিসেবে তিনটি বিশ্বকাপ ফাইনাল খেলতে নামছেন মেসি। ফাইনালের আগে চাপ অনুভব করছেন কি না, সেই প্রশ্নের উত্তরে তিনি জানান, আগের বিশ্বকাপ ফাইনাল এখন অতীত। সেই স্মৃতি নিয়ে আর ভাবছেন না তিনি। বরং দলকে নিয়ে নতুন লড়াইয়ের দিকেই সম্পূর্ণ মনোযোগ দিয়েছেন। মেসির বিশ্বাস, ফুটবল সবসময় উপভোগ করার খেলা। ছোটবেলার মতো আজও সেই আনন্দ নিয়েই তিনি মাঠে নামতে চান।

জুলাই ১৮, ২০২৬
খেলার দুনিয়া

ফাইনালে যাচ্ছেন না আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মিলেই, সামনে এল চমকপ্রদ কারণ

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর ফাইনালে রবিবার স্পেনের মুখোমুখি হবে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হতে চলা এই মহারণে বিশ্বের একাধিক রাষ্ট্রনেতার উপস্থিতি প্রত্যাশিত। তবে সবার নজর কেড়েছে আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মিলেই-এর সিদ্ধান্ত।ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর আমন্ত্রণ থাকা সত্ত্বেও তিনি বিশ্বকাপ ফাইনাল দেখতে যুক্তরাষ্ট্রে যাচ্ছেন না।কুসংস্কারই সিদ্ধান্তের মূল কারণআর্জেন্টিনার সংবাদমাধ্যম ও আন্তর্জাতিক রিপোর্ট অনুযায়ী, প্রেসিডেন্ট মিলেই বিশ্বাস করেন যে তিনি যেভাবে পুরো বিশ্বকাপ চলাকালীন বুয়েনস আইরেসের সরকারি বাসভবন থেকেই প্রতিটি ম্যাচ দেখেছেন, সেই রীতি ভাঙলে দলের ভাগ্যে প্রভাব পড়তে পারে।তিনি নিজের এই ম্যাচ-ডে রুটিনকে সৌভাগ্যের প্রতীক বলে মনে করেন। এমনকি একটি নির্দিষ্ট জ্যাকেটও প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে পরেন, যা তাঁর বিশ্বাস অনুযায়ী আর্জেন্টিনার জন্য শুভ। তাই ফাইনালের মতো ঐতিহাসিক ম্যাচের আগে সেই অভ্যাস বদলাতে নারাজ তিনি।আর্জেন্টিনার ফুটবল সংস্কৃতিতে কাবালাআর্জেন্টিনায় ফুটবলকে ঘিরে কাবালা (Cbala) বা সৌভাগ্যের কুসংস্কার দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য। সমর্থক থেকে শুরু করে খেলোয়াড়অনেকেই গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের আগে নির্দিষ্ট রুটিন অনুসরণ করেন।আরও পড়ুনঃ ৯৬ বছরের ইতিহাসে প্রথম! বিশ্বকাপজয়ী দলকে ট্রফির সঙ্গে দেওয়া হবে বিশেষ চ্যাম্পিয়নশিপ রিং, ফিফার নজিরবিহীন সিদ্ধান্তবিশ্লেষকদের মতে, প্রেসিডেন্ট মিলেইও সেই সংস্কৃতিরই অংশ। তাঁর বিশ্বাস, যতক্ষণ পর্যন্ত তিনি নিজের নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে চলবেন, ততক্ষণ আর্জেন্টিনার সৌভাগ্য অটুট থাকবে।ঐতিহাসিক ম্যাচের অপেক্ষায় ফুটবল বিশ্বরবিবারের ফাইনালে মুখোমুখি হচ্ছে ইউরোপের চ্যাম্পিয়ন স্পেন এবং বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। একদিকে লামিনে ইয়ামালদের স্পেন, অন্যদিকে লিওনেল মেসির নেতৃত্বে টানা দ্বিতীয় বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্নে বিভোর আর্জেন্টিনা।বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি ফুটবলপ্রেমীর নজর এখন এই মহারণের দিকে। আর সেই সময় দেশের প্রেসিডেন্ট মাঠে না থাকলেও, নিজের লাকি রুটিন বজায় রেখে টেলিভিশনের সামনে থেকেই দলের জন্য শুভকামনা জানাবেন হাভিয়ের মিলেই।

জুলাই ১৮, ২০২৬
খেলার দুনিয়া

ইংল্যান্ডকে হারিয়েই মাঠে যুদ্ধের বার্তা! আর্জেন্টিনার কাণ্ডে বিশ্বজুড়ে তোলপাড়, শাস্তির মুখে মেসির দল?

বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডকে হারিয়ে ফাইনালে উঠেছে আর্জেন্টিনা। কিন্তু ম্যাচ শেষের পর ফুটবলের চেয়ে বেশি আলোচনা শুরু হয়েছে মাঠের এক বিতর্কিত ঘটনাকে ঘিরে। জয়ের আনন্দে আর্জেন্টিনার একাধিক ফুটবলার ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ নিয়ে একটি ব্যানার হাতে মাঠে উদযাপন করেন। সেই ঘটনাকে কেন্দ্র করে নতুন করে বিতর্ক ছড়িয়েছে আন্তর্জাতিক ফুটবল মহলে। ফিফার নিয়ম অনুযায়ী মাঠে রাজনৈতিক বার্তা বা ব্যানার প্রদর্শন নিষিদ্ধ। তাই এই ঘটনার জেরে আর্জেন্টিনার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে বলে জোর জল্পনা শুরু হয়েছে।ম্যাচ শেষ হওয়ার পর দুই দলের ফুটবলারদের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়। কিছুক্ষণ দুই পক্ষের খেলোয়াড়দের মধ্যে বাগ্বিতণ্ডাও চলে। সেই সময়ই আর্জেন্টিনার কয়েকজন ফুটবলার একটি ব্যানার হাতে মাঠে নামেন। সেখানে লেখা ছিল, মালভিনাস আমাদেরই। আর্জেন্টিনায় ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জকে মালভিনাস নামে ডাকা হয়। ম্যাচ চলাকালীন গ্যালারিতেও একই স্লোগান ও ব্যানার দেখা গিয়েছিল।ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ নিয়ে আর্জেন্টিনা ও ব্রিটেনের দীর্ঘদিনের বিরোধ রয়েছে। দক্ষিণ আটলান্টিক মহাসাগরে অবস্থিত এই দ্বীপপুঞ্জ বর্তমানে ব্রিটেনের নিয়ন্ত্রণে থাকলেও আর্জেন্টিনা বহু বছর ধরে সেটিকে নিজেদের ভূখণ্ড বলে দাবি করে আসছে। এই বিরোধ থেকেই উনিশশো বিরাশিতে দুই দেশের মধ্যে রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ হয়েছিল। দীর্ঘ যুদ্ধের শেষে আর্জেন্টিনা পরাজিত হয় এবং দ্বীপপুঞ্জের নিয়ন্ত্রণ ব্রিটেনের হাতেই থেকে যায়। সেই যুদ্ধে বহু মানুষের মৃত্যু হয়েছিল।ফকল্যান্ড যুদ্ধের স্মৃতি ফুটবল ইতিহাসেও জড়িয়ে রয়েছে। যুদ্ধের কয়েক বছর পর বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে দিয়েগো মারাদোনার বিখ্যাত গোল আজও ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম আলোচিত ঘটনা। সেই আবেগ এখনও আর্জেন্টিনার ফুটবল সংস্কৃতিতে গভীরভাবে রয়ে গেছে বলেই মনে করছেন অনেকেই।তবে এবার মাঠে রাজনৈতিক বার্তা প্রদর্শনের কারণে আর্জেন্টিনা সমস্যায় পড়তে পারে। আন্তর্জাতিক ফুটবলের নিয়ম অনুযায়ী খেলার মাঠে কোনও রাজনৈতিক বা ভূখণ্ড সংক্রান্ত বার্তা প্রকাশ করা যায় না। তাই ফিফা এই ঘটনার তদন্ত করে কোনও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয় কি না, এখন সেটাই দেখার।

জুলাই ১৬, ২০২৬
খেলার দুনিয়া

মেসিকে আটকে রেখেও রক্ষা পেল না ইংল্যান্ড! স্কালোনির মাস্টারস্ট্রোকে বিশ্বকাপ ফাইনালে আর্জেন্টিনা, টুখেলের রক্ষণাত্মক কৌশলেই ভাঙল স্বপ্ন

বিশ্বকাপ সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডকে নাটকীয়ভাবে হারিয়ে ফাইনালে উঠল আর্জেন্টিনা। গোল না করেও ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দিলেন লিওনেল মেসি। স্কালোনির আক্রমণাত্মক পরিবর্তন ও টমাস টুখেলের রক্ষণাত্মক কৌশলই গড়ে দিল ম্যাচের ভাগ্য।বিশ্বকাপের ইতিহাসে বারবার দেখা গেছে, লিওনেল মেসিকে আটকে দিতে পারলেই আর্জেন্টিনাকে থামানো সম্ভবএই ধারণা অনেক দলেরই ছিল। কিন্তু বর্তমান আর্জেন্টিনা সেই ধারণাকে একেবারে ভুল প্রমাণ করে দিল। ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে মেসিকে কার্যত গোলশূন্য রেখেও ২-১ ব্যবধানে দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তনের জয় তুলে নিয়ে ফাইনালে পৌঁছে গেল লিওনেল স্কালোনির দল।এই ম্যাচ শুধু একটি জয় নয়, বরং আর্জেন্টিনার দলগত শক্তি, কৌশলগত পরিপক্বতা এবং মানসিক দৃঢ়তার এক উজ্জ্বল উদাহরণ হয়ে থাকবে।মেসিকে আটকে রাখার পরিকল্পনা সফল, তবুও হার ইংল্যান্ডেরম্যাচের শুরু থেকেই ইংল্যান্ডের লক্ষ্য ছিল স্পষ্টমেসিকে যতটা সম্ভব খেলার বাইরে রাখা। মাঝমাঠে জায়গা না দিয়ে একাধিক ফুটবলারকে তাঁর উপর দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। ফলে গোটা ম্যাচে খুব কমবারই ইংল্যান্ডের পেনাল্টি বক্সে ঢুকতে পেরেছেন আর্জেন্টিনা অধিনায়ক।তবে মেসি নিজেকে সীমাবদ্ধ রাখেননি। মাঝমাঠ থেকে খেলা তৈরি করার পাশাপাশি প্রয়োজন অনুযায়ী ডান প্রান্তে সরে গিয়ে আক্রমণের নতুন রাস্তা খুলে দেন। গোল করতে না পারলেও ম্যাচের দুই গোলের সূচনায় তাঁর অবদান ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।মেসি নয়, দলই আর্জেন্টিনার সবচেয়ে বড় শক্তিএই বিশ্বকাপে সবচেয়ে বড় পরিবর্তন এসেছে আর্জেন্টিনার মানসিকতায়। আগে দলের প্রায় সব আক্রমণ মেসিকে কেন্দ্র করে আবর্তিত হলেও এখন দায়িত্ব ভাগ করে নিয়েছেন এঞ্জো ফার্নান্দেজ, লাউতারো মার্তিনেজ, হুলিয়ান আলভারেজদের মতো ফুটবলাররা।৮৪ মিনিটে এঞ্জো ফার্নান্দেজের দুর্দান্ত দূরপাল্লার শটে সমতা ফেরে। সেই গোলের পর ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি চলে যায় আর্জেন্টিনার হাতে। নির্ধারিত সময় শেষ হওয়ার আগেই মেসির নিখুঁত ক্রসে অসাধারণ হেড করে জয়সূচক গোল করেন লাউতারো মার্তিনেজ।খাতায়-কলমে দুটি অ্যাসিস্ট মেসির হলেও গোল দুটির কৃতিত্ব সমানভাবে প্রাপ্য গোলদাতাদের। এই সমষ্টিগত শক্তিই বর্তমান আর্জেন্টিনাকে অন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে।স্কালোনির সাহসী সিদ্ধান্ত বদলে দিল ম্যাচপ্রথম এক ঘণ্টা পর্যন্ত ম্যাচে আধিপত্য ছিল ইংল্যান্ডের। দ্রুতগতির আক্রমণ এবং সংগঠিত ফুটবলে বারবার সমস্যায় পড়ছিল আর্জেন্টিনার রক্ষণভাগ।কিন্তু গোল হজম করার পরেও স্কালোনি ভয় পাননি। বরং আরও আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলানোর সিদ্ধান্ত নেন। রক্ষণভাগ থেকে একজন ফুটবলার তুলে অতিরিক্ত স্ট্রাইকার নামিয়ে দেন। ফলে ইংল্যান্ডের বক্সে ক্রমাগত চাপ তৈরি হতে থাকে।স্কালোনির এই সাহসী সিদ্ধান্তই ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয়।টুখেলের অতিরিক্ত রক্ষণাত্মক মানসিকতাই কাল হলোইংল্যান্ডের হারের সবচেয়ে বড় কারণ হিসেবে উঠে আসছে কোচ টমাস টুখেলের কৌশলগত ভুল।গোল করার পর আক্রমণ চালিয়ে যাওয়ার বদলে তিনি দলকে প্রায় পুরোপুরি নিজেদের অর্ধে নামিয়ে আনেন। অতিরিক্ত ডিফেন্ডার নামিয়ে ৫-৪-১ ফরমেশনে চলে যান। এমনকি হ্যারি কেনকেও রক্ষণ সামলাতে দেখা যায়।এই সিদ্ধান্তের ফলে ইংল্যান্ডের আক্রমণ পুরোপুরি থেমে যায়। বলের দখল, ম্যাচের গতি এবং আত্মবিশ্বাসসবকিছুই ধীরে ধীরে আর্জেন্টিনার দিকে চলে যেতে থাকে।আধুনিক ফুটবলে এক গোলের ব্যবধান কখনও নিরাপদ নয়। অথচ দ্বিতীয় গোলের খোঁজে না গিয়ে শুধুমাত্র লিড ধরে রাখার চেষ্টা করেই বড় মূল্য চুকাতে হলো টুখেলকে।ফাইনালের আগে বড় বার্তা দিল আর্জেন্টিনাম্যাচ শেষে সেন্টার সার্কেলে হাঁটু গেড়ে বসে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন লিওনেল মেসি। সতীর্থরা তাঁকে ঘিরে উদযাপনে মেতে ওঠেন। সেই দৃশ্য যেন একটি বার্তাই দেয়এই দল শুধু একজন সুপারস্টারের নয়, বরং ১১ জনের সম্মিলিত লড়াইয়ের প্রতীক।মেসি গোল না করলেও আর্জেন্টিনা জিততে পারেএই বিশ্বাস এখন বাস্তবে পরিণত হয়েছে। নকআউট পর্বে একের পর এক ম্যাচে বিভিন্ন ফুটবলার দায়িত্ব নিয়ে দলকে জিতিয়েছেন। সেমিফাইনালেও তার ব্যতিক্রম হয়নি।বিশ্বকাপের ফাইনালের আগে এই জয় শুধু একটি ম্যাচ জেতার গল্প নয়, বরং প্রতিপক্ষের উদ্দেশে স্পষ্ট বার্তামেসিকে আটকালেই আর্জেন্টিনাকে থামানো যাবে, সেই ধারণার দিন শেষ।

জুলাই ১৬, ২০২৬
খেলার দুনিয়া

১৩ মিনিটে মহাকাব্য! মৃত্যুকূপ থেকে আর্জেন্টিনাকে টেনে তুললেন মেসি, ইতিহাস গড়ে কোয়ার্টার ফাইনালে আলবিসেলেস্তেরা

এভাবেও ফিরে আসা যায়?প্রথমার্ধেই পেনাল্টি নষ্ট। তারপর যেন কিছুই ঠিক হচ্ছিল না। আক্রমণে ছন্দ নেই, মাঝমাঠে সংযোগ নেই, রক্ষণে একের পর এক ভুল। আর সেই সুযোগে পিরামিডের মতো অটল রক্ষণ গড়ে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় মিশর। সময় যত গড়াচ্ছিল, ততই বাড়ছিল হতাশা। মাঠে যেন দিশেহারা বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা, নির্বাক লিওনেল মেসি।কিন্তু মহান দলগুলোর পরিচয়ই হলতারা শেষ বাঁশি না বাজা পর্যন্ত হারে না।খেলা শেষ হতে আর মাত্র ১৩ মিনিট বাকি। ঠিক সেই মুহূর্তেই যেন আগ্নেয়গিরির বিস্ফোরণ! বদলে গেল ম্যাচের গতি, বদলে গেল ইতিহাসের খাতা। মেসির নেতৃত্বে একের পর এক আক্রমণে ভেঙে পড়ল মিশরের অদম্য রক্ষণ। মাত্র ১৩ মিনিটে তিন গোল! ২-০ পিছিয়ে থেকেও ৩-২ ব্যবধানে অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তন আর্জেন্টিনার।যে ম্যাচে ৭৭ মিনিট পর্যন্ত লেখা হচ্ছিল পরাজয়ের কাহিনি, শেষ ১৩ মিনিটে সেটাই হয়ে উঠল প্রত্যাবর্তনের মহাকাব্য। পেনাল্টি মিসের আক্ষেপ, ২ গোলের পিছিয়ে পড়া, ছন্দহীন ফুটবলসবকিছু ঢেকে দিল এক দুর্দান্ত জয়।ফুটবল আবারও মনে করিয়ে দিলশেষ বাঁশি না বাজা পর্যন্ত কোনও ম্যাচ শেষ হয় না। আর মাঠে যখন মেসি থাকেন, তখন অসম্ভবও কখনও কখনও ইতিহাস হয়ে ওঠে।বিশ্বকাপের মঞ্চে এমন প্রত্যাবর্তন খুব বেশি দেখা যায় না। একসময় মনে হচ্ছিল, লিয়োনেল মেসির শেষ বিশ্বকাপ অভিযান শেষ হতে চলেছে। ০-২ গোলে পিছিয়ে থাকা আর্জেন্টিনা ছিল কার্যত বিদায়ের দোরগোড়ায়। কিন্তু ফুটবলের ইতিহাসে যাঁদের নাম কিংবদন্তির অক্ষরে লেখা থাকে, তাঁরা সংকটের মুহূর্তেই নিজেদের প্রকৃত পরিচয় দেন। সেই কাজটাই করলেন লিয়োনেল মেসি। মাত্র ১৩ মিনিটের বিস্ফোরক ফুটবলে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে ৩-২ ব্যবধানে লড়াকু মিশরকে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে পৌঁছে গেল আর্জেন্টিনা।তবে এই জয় যতটা আনন্দের, ততটাই সতর্কবার্তাও। কারণ স্কোরলাইন জয় দেখালেও পুরো ম্যাচজুড়ে আর্জেন্টিনার ফুটবল ছিল উদ্বেগজনক। কাবো ভার্দের বিরুদ্ধে দুর্বল পারফরম্যান্সের পর মিশরের বিপক্ষেও আক্রমণ, মাঝমাঠ ও রক্ষণতিন বিভাগেই একের পর এক ভুল ধরা পড়েছে। শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে এই ফুটবল ভবিষ্যতে বড় বিপদের কারণ হতে পারে।প্রথমার্ধ থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে শুরু করে মিশর। দ্রুতগতির কাউন্টার অ্যাটাক এবং মোহাম্মদ সালাহদের তীক্ষ্ণ পাসিংয়ে বারবার বিপাকে পড়ে আর্জেন্টিনার রক্ষণ। লিসান্দ্রো মার্তিনেজ ও ক্রিশ্চিয়ান রোমেরোর সমন্বয়ের অভাব স্পষ্ট হয়ে ওঠে। সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে দুই গোল করে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় আফ্রিকার দল। এমনকি ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি (VAR) হস্তক্ষেপ না করলে ব্যবধান আরও বাড়তে পারত।অন্যদিকে মাঝমাঠেও দেখা যায় অদ্ভুত নিষ্প্রভতা। রদ্রিগো ডি পল কিংবা অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টারের মতো ফুটবলাররা প্রত্যাশামতো খেলতে পারেননি। সামনের দিকে সৃজনশীল পাসের বদলে নিরাপদ ব্যাকপাস বা স্কোয়ার পাসেই সীমাবদ্ধ ছিলেন তাঁরা। ফলে বল তৈরি করার দায়িত্বও এসে পড়ে মেসির কাঁধে। মাঝমাঠ থেকে নেমে বল সংগ্রহ করে আবার আক্রমণে উঠতে হচ্ছিল তাঁকেই।এর মধ্যেই সহজ একটি পেনাল্টি নষ্ট করেন মেসি। চলতি বিশ্বকাপে এটি তাঁর দ্বিতীয় পেনাল্টি মিস। কিছুক্ষণ পর একটি দুর্দান্ত ফ্রি-কিক পোস্টে লেগে ফিরে আসে। ৭০ মিনিট পর্যন্ত তিনজন ডিফেন্ডারের কড়া নজরে প্রায় নিষ্ক্রিয় ছিলেন তিনি। মনে হচ্ছিল, এ দিন হয়তো মেসির জাদুও কাজ করবে না।কিন্তু ৭৩ মিনিটে বদলে যায় পুরো ছবিটা। মাঝখান ছেড়ে ডান প্রান্তে সরে যান মেসি। সেই কৌশলগত পরিবর্তনই যেন ভেঙে দেয় মিশরের রক্ষণভাগ।৭৯ মিনিটে ডান দিক থেকে তাঁর নিখুঁত ক্রস থেকে হেডে গোল করে ব্যবধান কমান ক্রিশ্চিয়ান রোমেরো। চার মিনিট পর আবার মেসির পা থেকেই আসে সমতা ফেরানোর গোল। নিজের তৈরি করা আক্রমণ শেষ করেন নিজেই, ফিরতি বলে জোরালো শটে জালে বল জড়িয়ে।ম্যাচ তখন অতিরিক্ত সময়ে গড়াবে বলেই মনে হচ্ছিল। কিন্তু নির্ধারিত সময়ের শেষ দিকে আবারও ডান প্রান্ত থেকে আক্রমণ গড়ে ওঠে। লাউতারো মার্টিনেজের দুর্দান্ত ক্রসে হেড করে জয়সূচক গোল করেন এঞ্জো ফার্নান্দেজ। মাত্র ১৩ মিনিটে তিনটি গোল করে অসম্ভবকে সম্ভব করে আর্জেন্টিনা।শেষ বাঁশি বাজার সঙ্গে সঙ্গেই আবেগে ভেঙে পড়েন মেসি। চোখের জল আটকে রাখতে পারেননি তিনি। সতীর্থদের জড়িয়ে ধরেন, আর তাঁরাও অধিনায়ককে কাঁধে তুলে উদ্যাপনে মেতে ওঠেন। সেই দৃশ্যই বুঝিয়ে দেয়, এই জয় শুধুমাত্র একটি ম্যাচ জেতা নয়এটি ছিল বিশ্বকাপে বেঁচে থাকার লড়াই।পরিসংখ্যানও বলছে, বিশ্বকাপের ইতিহাসে এর আগে কখনও ০-২ গোলে পিছিয়ে পড়ে জয় পায়নি আর্জেন্টিনা। এমনকি ড্রও করতে পারেনি। সেই ইতিহাস বদলে দিলেন মেসি ও তাঁর দল। বিশ্বকাপের মঞ্চে এটি আলবিসেলেস্তেদের অন্যতম সেরা প্রত্যাবর্তন হিসেবে জায়গা করে নিল।তবে এই নাটকীয় জয় কোয়ার্টার ফাইনালের টিকিট এনে দিলেও সব প্রশ্নের উত্তর দেয়নি। বরং নতুন করে সামনে এনে দিয়েছে আর্জেন্টিনার দুর্বলতাগুলো। রক্ষণে সমন্বয়ের অভাব, মাঝমাঠে সৃজনশীলতার সংকট এবং আক্রমণে অতিরিক্ত মেসি-নির্ভরতাএসব সমস্যা দ্রুত মেটাতে না পারলে ফ্রান্স, স্পেন বা অন্য শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে বিপদ আরও বাড়বে।মেসি আবারও প্রমাণ করলেন, তিনি একাই ম্যাচের ভাগ্য বদলে দিতে পারেন। কিন্তু বিশ্বকাপ জিততে হলে শুধু একজন মেসি নয়, প্রয়োজন গোটা দলের সমান লড়াই। কোয়ার্টার ফাইনালের আগে সেই কঠিন পরীক্ষার মুখেই দাঁড়িয়ে লিয়োনেল স্কালোনির আর্জেন্টিনা।

জুলাই ০৮, ২০২৬
খেলার দুনিয়া

মারাদোনার রেকর্ড ভেঙে ইতিহাসের শিখরে মেসি! গোলেও একের পর এক নজির

বয়স যত বাড়ছে, ততই যেন নতুন নতুন ইতিহাস লিখে চলেছেন লিওনেল মেসি। ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার অধিনায়কের দুরন্ত ফর্ম অব্যাহত। কেপ ভার্দের বিরুদ্ধে নকআউট পর্বের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে শুধু দলকে জেতাতেই বড় ভূমিকা নেননি, একই সঙ্গে বিশ্বকাপ ইতিহাসে এমন একটি রেকর্ড গড়েছেন, যা এতদিন ছিল আর্জেন্টিনার আর এক কিংবদন্তি দিয়েগো মারাদোনার দখলে।ম্যাচে একটি অ্যাসিস্ট করে বিশ্বকাপে নিজের মোট অ্যাসিস্টের সংখ্যা দাঁড় করালেন ৯-এ। এর ফলে বিশ্বকাপের ইতিহাসে সর্বাধিক অ্যাসিস্টের মালিক এখন এককভাবে লিওনেল মেসি। এতদিন ৮টি অ্যাসিস্ট নিয়ে এই রেকর্ডটি ছিল দিয়েগো মারাদোনার নামে। সেই নজির ভেঙে আরও একবার নিজের নাম ইতিহাসের পাতায় স্বর্ণাক্ষরে লিখে ফেললেন আর্জেন্টাইন মহাতারকা।গোল করাতেও অতুলনীয় মেসিফুটবল বিশ্বে মেসিকে সাধারণত অসাধারণ গোলদাতা হিসেবেই বেশি চেনা হয়। তবে তাঁর খেলার অন্যতম বড় শক্তি হল সতীর্থদের জন্য সুযোগ তৈরি করে দেওয়া। নিখুঁত পাস, অসাধারণ ভিশন এবং ম্যাচের গতিপ্রকৃতি বোঝার ক্ষমতা তাঁকে বিশ্বের অন্যতম সেরা প্লেমেকারেও পরিণত করেছে। কেপ ভার্দের বিপক্ষে সেই দক্ষতারই আরও একটি উজ্জ্বল প্রমাণ মিলল।বিশ্বকাপে ৯টি অ্যাসিস্টের রেকর্ড শুধু তাঁর ব্যক্তিগত কৃতিত্বই নয়, বরং দীর্ঘ সময় ধরে সর্বোচ্চ পর্যায়ে ধারাবাহিক পারফরম্যান্সেরও প্রতীক।গোলেও নতুন মাইলফলকঅ্যাসিস্টের পাশাপাশি গোল করেও ইতিহাস গড়েছেন মেসি। ম্যাচের ২৯ মিনিটে লিসান্দ্রো মার্টিনেজের বাড়ানো বল থেকে দুরন্ত ফিনিশিংয়ে আর্জেন্টিনাকে এগিয়ে দেন তিনি। এটি ছিল বিশ্বকাপে তাঁর ২০তম গোল।এই গোলের সুবাদে আরও একটি অনন্য নজির গড়েন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক। বিশ্বকাপের ইতিহাসে প্রথম ফুটবলার হিসেবে টানা আটটি ম্যাচে গোল করার কৃতিত্ব অর্জন করেন তিনি। শুধু তাই নয়, দুটি পৃথক বিশ্বকাপে সাত বা তার বেশি গোল করা প্রথম ফুটবলার হিসেবেও নিজের নাম লেখান মেসি।গোল্ডেন বুটের লড়াইয়ে এগিয়ে২০২৬ বিশ্বকাপে ইতিমধ্যেই সাতটি গোল করে গোল্ডেন বুটের দৌড়ে শীর্ষস্থান ধরে রেখেছেন মেসি। তবে লড়াই এখনও শেষ হয়নি। ফ্রান্সের তারকা কিলিয়ান এমবাপে ছয় গোল করে খুব কাছেই রয়েছেন। ফলে টুর্নামেন্ট যত এগোবে, ততই জমে উঠবে সর্বোচ্চ গোলদাতার প্রতিযোগিতা।নাটকীয় লড়াইয়ের শেষে আর্জেন্টিনার জয়কেপ ভার্দের বিরুদ্ধে ম্যাচটি ছিল অত্যন্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ। নির্ধারিত ৯০ মিনিট শেষে দুই দলই ২-২ গোলে সমতায় ছিল। অতিরিক্ত সময়েও দুই দলের লড়াই ছিল সমানে সমান।শেষ পর্যন্ত ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ হয় এক আত্মঘাতী গোলে। অতিরিক্ত সময়ে মেসির নেওয়া একটি শট বিপদমুক্ত করতে গিয়ে কেপ ভার্দের ডিফেন্ডার দিনে বোরজেস নিজের জালেই বল জড়িয়ে ফেলেন। সেই আত্মঘাতী গোলেই ৩-২ ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করে আর্জেন্টিনা।এই জয়ের সুবাদে লিওনেল স্কালোনির দল নিশ্চিত করে শেষ ষোলোর টিকিট। আর ব্যক্তিগতভাবে লিওনেল মেসি আরও একবার প্রমাণ করলেন, তিনি শুধু গোল করার জন্যই নন, দলের আক্রমণ গড়ে তোলা এবং ইতিহাস সৃষ্টিদুই ক্ষেত্রেই অনন্য। প্রতিটি ম্যাচে নতুন রেকর্ড গড়ে তিনি যেন নিজের কিংবদন্তিকে আরও সমৃদ্ধ করে চলেছেন।

জুলাই ০৪, ২০২৬
খেলার দুনিয়া

'কোথায় গেল ঘানার সেই তান্ত্রিক?' আর্জেন্টিনার জয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় মিমের বন্যা, ভবিষ্যদ্বাণী উল্টে দিল লা অ্যালবিসেলেস্তে

ফুটবল বিশ্বকাপ মানেই চমক, নাটকীয়তা আর নানান ধরনের ভবিষ্যদ্বাণী। কখনও অক্টোপাসের ভবিষ্যদ্বাণী, কখনও আবার কার্টুন সিরিজ The Simpsons-এর কাকতালীয় মিলপ্রতিটি বিশ্বকাপেই এমন নানা ঘটনা ফুটবলপ্রেমীদের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে ওঠে। তবে এবার সবকিছুকে ছাপিয়ে ভাইরাল হয়ে ওঠেন ঘানার এক স্বঘোষিত তান্ত্রিক।বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনা বনাম কেপ ভার্দে ম্যাচের আগে তিনি দাবি করেছিলেন, লিওনেল মেসিদের দল নাকি কেপ ভার্দের কাছেই আটকে যাবে এবং প্রি-কোয়ার্টার ফাইনালে পৌঁছতে পারবে না। তাঁর এই মন্তব্য মুহূর্তের মধ্যে সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ে। কেউ সেটিকে নিছক বিনোদন হিসেবে নিলেও, অনেকেই আবার ভবিষ্যদ্বাণী সত্যি হবে বলেই ধরে নিয়েছিলেন।কিন্তু মাঠে নেমে সব হিসেবই বদলে দেয় আর্জেন্টিনা। ১২০ মিনিট ধরে টানটান উত্তেজনার ম্যাচে কেপ ভার্দেকে ৩-২ গোলে হারিয়ে শেষ ১৬-তে জায়গা নিশ্চিত করে লা অ্যালবিসেলেস্তে। কঠিন লড়াইয়ের পর পাওয়া এই জয় শুধু আর্জেন্টিনার সমর্থকদেরই উচ্ছ্বসিত করেনি, একইসঙ্গে ঘানার সেই তান্ত্রিকের দাবিকেও সম্পূর্ণ ভুল প্রমাণ করেছে।আর্জেন্টিনার জয়ের পর থেকেই সোশ্যাল মিডিয়ায় শুরু হয়েছে হাস্যরসের ঝড়। ফেসবুক, এক্স (টুইটার), ইনস্টাগ্রামসব জায়গাতেই একটাই প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে, কোথায় গেল ঘানার সেই তান্ত্রিক? কেউ লিখছেন, ধরে আন ব্যাটাকে! আবার কেউ মিম বানিয়ে দেখাচ্ছেন, ভবিষ্যদ্বাণী ব্যর্থ হতেই তিনি নাকি গায়েব হয়ে গিয়েছেন। মুহূর্তের মধ্যে হাজার হাজার মিম এবং ট্রোল ছড়িয়ে পড়ে নেটদুনিয়ায়।ঘটনার মজার দিক আরও একটি। যে ঘানার তান্ত্রিক আর্জেন্টিনার বিদায়ের ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন, সেই ঘানার দলই শেষ পর্যন্ত কলম্বিয়ার কাছে হেরে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নেয়। ফলে সমর্থকদের একাংশ কটাক্ষ করে বলছেন, অন্যের ভাগ্য গণনা করতে গিয়ে নিজের দলের ভবিষ্যৎই দেখতে পেলেন না!ফুটবল যে শেষ বাঁশি বাজার আগে কোনও ফলাফল মেনে নেয় না, আর্জেন্টিনা বনাম কেপ ভার্দে ম্যাচ যেন তারই আরেকটি উজ্জ্বল উদাহরণ। কুসংস্কার, অলৌকিক দাবি কিংবা ভাইরাল ভবিষ্যদ্বাণীর চেয়ে শেষ পর্যন্ত মাঠের লড়াই, কৌশল এবং ফুটবল দক্ষতাই যে আসল কথাতা আরও একবার প্রমাণ করলেন মেসিরা।এখন শেষ ১৬-র লড়াইয়ে আর্জেন্টিনার সামনে মিশর। তবে এই মুহূর্তে মাঠের পারফরম্যান্সের পাশাপাশি সোশ্যাল মিডিয়ায় সবচেয়ে বেশি আলোচনার বিষয় একটাইঘানার সেই তান্ত্রিক এখন

জুলাই ০৪, ২০২৬
খেলার দুনিয়া

মেসির জন্য শতবর্ষী বৃদ্ধার উন্মাদনা! গ্যালারিতে যা করলেন, মুহূর্তে ভাইরাল

লিওনেল মেসির ভক্তের সংখ্যা যে কতটা বিশাল, তার নতুন প্রমাণ মিলল বিশ্বকাপের মঞ্চে। বয়স যেখানে অনেকের কাছে সীমাবদ্ধতা, সেখানে একশো বছর বয়সেও প্রিয় ফুটবলারের খেলা দেখতে স্টেডিয়ামে হাজির হয়ে সকলকে চমকে দিলেন এক বৃদ্ধা। ডালাসের গ্যালারিতে তাঁর উপস্থিতিই এখন সামাজিক মাধ্যমে সবচেয়ে আলোচিত বিষয়।অস্ট্রিয়ার বিরুদ্ধে আর্জেন্টিনার গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ দেখতে গ্যালারিতে বসেছিলেন একশো বছর বয়সি পউলিনে কানা। ধবধবে সাদা চুল, গায়ে আর্জেন্টিনার জার্সি আর হাতে একটি প্ল্যাকার্ড। সেখানে লেখা ছিল, তিনি একশো বছর বয়সি মেসি-ভক্ত। সেই ছবি মুহূর্তের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে সামাজিক মাধ্যমে।তবে পউলিনে শুধু মেসির ভক্ত হিসেবেই পরিচিত নন। সামাজিক মাধ্যমেও তাঁর জনপ্রিয়তা আকাশছোঁয়া। নাতির সঙ্গে মজার ভিডিও বানিয়ে তিনি কোটি কোটি মানুষের কাছে পরিচিত মুখ। বহু বছর ধরেই তিনি অনলাইনে জনপ্রিয়। তাঁর নাম রয়েছে বিশ্বরেকর্ডের তালিকাতেও। তবে সাম্প্রতিক সময়ে মেসির প্রতি তাঁর ভালোবাসাই তাঁকে নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রে নিয়ে এসেছে।এর আগেও মেসির খেলা দেখতে মাঠে হাজির হয়েছিলেন তিনি। তখন একটি পোস্টারে মজার ছলে লিখেছিলেন, মেসি, তুমি কি আমায় বিয়ে করবে? সেই ছবিও ব্যাপক ভাইরাল হয়েছিল। এবারও ব্যতিক্রম হল না। বিশ্বরেকর্ডের ম্যাচে তাঁর উপস্থিতি ফুটবলপ্রেমীদের আবেগ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।অন্যদিকে মাঠেও ছিল মেসি-ম্যাজিক। ম্যাচের শুরুতে পেনাল্টি মিস করলেও পরে জোড়া গোল করে দলকে জয় এনে দেন আর্জেন্টিনার অধিনায়ক। প্রথম গোলটি আসে দুর্দান্ত ফিনিশে, যা গ্যালারিতে উপস্থিত দর্শকদের উচ্ছ্বাসে ভাসিয়ে দেয়। দ্বিতীয় গোলটি আসে ম্যাচের একেবারে শেষ মুহূর্তে, যা আর্জেন্টিনার জয় নিশ্চিত করে।এই জোড়া গোলের সুবাদে বিশ্বকাপ ইতিহাসে সর্বাধিক গোলদাতার নতুন রেকর্ডও গড়েছেন মেসি। ফলে একদিকে মাঠে ইতিহাস, অন্যদিকে গ্যালারিতে একশো বছর বয়সি ভক্তের আবেগ সব মিলিয়ে স্মরণীয় হয়ে থাকল এই ম্যাচ।ফুটবলপ্রেমীদের অনেকেই বলছেন, মেসির আসল সাফল্য শুধু গোল বা ট্রফিতে নয়, বরং এমন প্রজন্ম পেরোনো ভালোবাসায়। কারণ একশো বছরের এক বৃদ্ধা থেকে শুরু করে কোলে থাকা শিশুও যখন একই ফুটবলারের জন্য গ্যালারিতে উচ্ছ্বাসে ফেটে পড়ে, তখন বোঝা যায় তাঁর জনপ্রিয়তার বিস্তার কতটা।

জুন ২৩, ২০২৬
খেলার দুনিয়া

মেসির বিশ্বরেকর্ডের ম্যাচেই বিস্ফোরক অভিযোগ! গোলটা কি আদৌ বৈধ ছিল?

বিশ্বরেকর্ড গড়েছেন লিওনেল মেসি, আর্জেন্টিনাকেও তুলে দিয়েছেন নকআউট পর্বে। কিন্তু ম্যাচ শেষের পর আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে তাঁর গোল নয়, বরং সেই গোলকে ঘিরে তৈরি হওয়া বিতর্ক। ফুটবল মহলের একাংশের প্রশ্ন, অস্ট্রিয়ার বিরুদ্ধে মেসির প্রথম গোলটি কি আদৌ বৈধ ছিল?ম্যাচের শুরুতে পেনাল্টি মিস করেছিলেন আর্জেন্টিনার অধিনায়ক। তবে সেই হতাশা কাটিয়ে পরে জোড়া গোল করে দলকে জয় এনে দেন। ম্যাচের আটত্রিশ মিনিটে দুর্দান্ত ফিনিশে গোল করে আর্জেন্টিনাকে এগিয়ে দেন তিনি। কিন্তু গোল হওয়ার আগে মাঝমাঠে ঘটে যাওয়া একটি ঘটনাকে ঘিরেই এখন শুরু হয়েছে তুমুল বিতর্ক।অভিযোগ, গোল হওয়ার ঠিক আগে অস্ট্রিয়ার এক ফুটবলারের উপর ট্যাকল করেছিলেন আর্জেন্টিনার এক মিডফিল্ডার। সেই ঘটনায় রেফারি খেলা থামাননি। পরে সেই আক্রমণ থেকেই গোল আসে। ফুটবল বিশ্লেষকদের একাংশের দাবি, গোলের আগে আক্রমণ তৈরির পর্যায়ে যদি ফাউল হয়ে থাকে, তাহলে প্রযুক্তিনির্ভর পর্যালোচনার মাধ্যমে বিষয়টি খতিয়ে দেখা উচিত ছিল।এই বিতর্কে সরব হয়েছেন ডেনমার্কের কিংবদন্তি গোলরক্ষক পিটার স্মাইকেলও। তাঁর মতে, গোলটি বাতিল হওয়া উচিত ছিল। তিনি দাবি করেন, অস্ট্রিয়ার ফুটবলারের বিরুদ্ধে স্পষ্ট ফাউল হয়েছিল এবং সেই কারণে আক্রমণ শুরুই হওয়া উচিত ছিল না। প্রযুক্তিনির্ভর পর্যালোচনা ব্যবস্থাও এই বিষয়টি দেখতে ব্যর্থ হয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।ফুটবল মহলের একাংশের মতে, এমন গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে এই ধরনের সিদ্ধান্ত আরও বেশি বিতর্ক তৈরি করে। বিশেষ করে যখন সেই গোলের মাধ্যমেই ইতিহাস গড়েন বিশ্বের অন্যতম সেরা ফুটবলার।এটাই অবশ্য প্রথম নয়। এর আগেও আলজেরিয়ার বিরুদ্ধে ম্যাচে মেসিকে ঘিরে বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। সেই ম্যাচে প্রতিপক্ষের অধিনায়কের বিরুদ্ধে একটি চ্যালেঞ্জকে কেন্দ্র করে প্রশ্ন উঠেছিল রেফারির সিদ্ধান্ত নিয়ে। সেই ঘটনায় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা না নেওয়ায় আপত্তি জানিয়েছিল আলজেরিয়া।অস্ট্রিয়ার বিরুদ্ধে জোড়া গোল করে মেসি আবারও নিজের অসাধারণ প্রতিভার প্রমাণ দিয়েছেন। তবে রেকর্ড গড়ার রাতেও বিতর্ক যে তাঁর পিছু ছাড়ল না, তা বলাই যায়। এখন ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন, গোলটি কি নিয়ম মেনেই হয়েছিল, নাকি রেফারির একটি সিদ্ধান্ত বদলে দিতে পারত ম্যাচের গল্প?

জুন ২৩, ২০২৬
খেলার দুনিয়া

এক ম্যাচেই রেকর্ড, জোড়া গোল, নকআউট! আবারও বিশ্বজয়ীর ছন্দে আর্জেন্টিনা

পেনাল্টি মিস দিয়ে শুরু। কিন্তু ম্যাচ শেষ হল ইতিহাস গড়ে। বিশ্বকাপের মঞ্চে আবারও নিজের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করলেন লিওনেল মেসি। অস্ট্রিয়ার বিরুদ্ধে জোড়া গোল করে নতুন বিশ্বরেকর্ড গড়লেন আর্জেন্টিনার অধিনায়ক। একইসঙ্গে ২-০ ব্যবধানে জিতে নকআউট পর্বে নিজেদের জায়গাও নিশ্চিত করে ফেলল আর্জেন্টিনা।প্রথম ম্যাচে দুরন্ত জয় পাওয়ার পর অস্ট্রিয়ার বিরুদ্ধেও আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে শুরু করে আর্জেন্টিনা। ম্যাচের শুরু থেকেই প্রতিপক্ষের রক্ষণে চাপ সৃষ্টি করেন মেসি, লাউতারো মার্টিনেজরা। খুব দ্রুতই গোলের সুযোগ তৈরি হয়। এক সময় পেনাল্টিও পায় আর্জেন্টিনা।সেই পেনাল্টি নিতে এগিয়ে আসেন মেসি। গোটা স্টেডিয়াম অপেক্ষা করছিল আরেকটি ঐতিহাসিক মুহূর্তের জন্য। কিন্তু সবাইকে অবাক করে বল লক্ষ্যভ্রষ্ট করেন আর্জেন্টাইন মহাতারকা। মুহূর্তের জন্য স্তব্ধ হয়ে যায় সমর্থকেরা।তবে মেসির গল্প কখনও এত সহজে শেষ হয় না। পেনাল্টি মিসের হতাশা কাটিয়ে ম্যাচের ৩৮ মিনিটে দুরন্ত গোল করে দলকে এগিয়ে দেন তিনি। ডান প্রান্ত থেকে আসা বল নিখুঁত দক্ষতায় জালে জড়িয়ে ইতিহাসের পাতায় নিজের নাম আরও উজ্জ্বল করে তোলেন মেসি। সেই গোলের সঙ্গে সঙ্গেই তিনি বিশ্বকাপের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতাদের তালিকায় এককভাবে শীর্ষস্থানে উঠে আসেন।দ্বিতীয়ার্ধে অস্ট্রিয়া লড়াইয়ে ফেরার চেষ্টা করেছিল। কয়েকবার আক্রমণও শানায় তারা। তবে আর্জেন্টিনার রক্ষণকে বড় কোনও সমস্যায় ফেলতে পারেনি। উল্টে পাল্টা আক্রমণে আরও কয়েকটি সুযোগ তৈরি করে আর্জেন্টিনা।ম্যাচের একেবারে শেষদিকে আবারও নিজের জাদু দেখান মেসি। প্রতিপক্ষ যখন সমতা ফেরানোর মরিয়া চেষ্টায় ব্যস্ত, তখন দ্রুত পাল্টা আক্রমণ থেকে নিজের দ্বিতীয় গোলটি করেন তিনি। সেই গোলেই ম্যাচের ফল নির্ধারিত হয়ে যায়।জোড়া গোলের সৌজন্যে বিশ্বকাপে নিজের গোলসংখ্যা আরও বাড়ালেন মেসি। তাঁর অসাধারণ পারফরম্যান্সে টানা দ্বিতীয় জয় তুলে নিয়ে নকআউট পর্বে জায়গা নিশ্চিত করল আর্জেন্টিনা।বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বিষয়, এই দিনেই চার দশক আগে দিয়েগো মারাদোনার এক ঐতিহাসিক ম্যাচ ফুটবল ইতিহাসে অমর হয়ে রয়েছে। সেই স্মরণীয় দিনে মেসির নতুন বিশ্বরেকর্ড যেন আর্জেন্টাইন ফুটবলের গৌরবকে আরও একবার উজ্জ্বল করে তুলল।তবে জয়ের মাঝেও কিছুটা চিন্তা রয়েছে আর্জেন্টিনা শিবিরে। মেসির ব্যক্তিগত উজ্জ্বলতা ম্যাচের পার্থক্য গড়ে দিলেও দলের সামগ্রিক খেলায় এখনও উন্নতির জায়গা রয়েছে। নকআউট পর্বের কঠিন লড়াইয়ের আগে সেই দিকেই নজর থাকবে কোচ এবং সমর্থকদের।

জুন ২৩, ২০২৬
খেলার দুনিয়া

গোলের পর হঠাৎ কেঁদে ফেললেন মেসি! হ্যাটট্রিকের রাতেও কেন চোখে জল আর্জেন্টিনা অধিনায়কের?

ফুটবল মাঠে এমন দৃশ্য খুব একটা দেখা যায় না। একদিকে দুরন্ত হ্যাটট্রিক, অন্যদিকে চোখে জল। আর সেই মানুষটি যখন লিওনেল মেসি, তখন স্বাভাবিকভাবেই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে আসে ঘটনাটি।আলজেরিয়ার বিরুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক মেজাজে ছিলেন আর্জেন্টিনার অধিনায়ক। ম্যাচের মাত্র সতেরো মিনিটে নিজের পরিচিত ভঙ্গিতে গোল করেন তিনি। বক্সের বাইরে থেকে বাঁ-পায়ের শক্তিশালী শটে বল জালে জড়িয়ে দেন মেসি। গোলরক্ষক বল ছুঁয়েও তা আটকাতে পারেননি।গোলটি ছিল ফুটবলপ্রেমীদের কাছে বহুবার দেখা মেসি-জাদুর আরেকটি উদাহরণ। কিন্তু গোলের পর যা দেখা গেল, তা আরও বেশি আলোচনার জন্ম দিয়েছে। উদযাপনের সময় মেসির চোখে জল ধরা পড়ে। সেই মুহূর্তে সমর্থকদের মনে প্রশ্ন জাগে, এত আনন্দের মধ্যেও কেন কাঁদছেন তিনি?ম্যাচ শেষে নিজেই সেই প্রশ্নের উত্তর দেন আর্জেন্টিনা অধিনায়ক। তিনি জানান, এই কান্নার সঙ্গে ফুটবলের সরাসরি কোনও সম্পর্ক নেই। গত কয়েকটি দিন তাঁর জীবনে কঠিন সময়ের মধ্যে কেটেছে। সেই সময় সতীর্থ, কোচিং স্টাফ এবং দলের সদস্যরা সবসময় তাঁর পাশে ছিলেন। তাঁদের প্রতি কৃতজ্ঞতাই আবেগের রূপ নিয়েছিল।মেসি আরও বলেন, জীবনে তিনি যা পেয়েছেন, তার জন্য নিজেকে ভাগ্যবান মনে করেন। ফুটবল এখনও তাঁকে আনন্দ দেয় এবং প্রতিটি মুহূর্ত তিনি উপভোগ করছেন। দীর্ঘদিন চোটের কারণে মাঠের বাইরে থাকার পর আবার ছন্দে ফিরতে পারা তাঁর কাছে বিশেষ অনুভূতির।এই হ্যাটট্রিকের পর আর্জেন্টিনার কোচ লিওনেল স্কালোনিও মুগ্ধ। তাঁর কথায়, মেসিকে বর্ণনা করার মতো শব্দ খুঁজে পাওয়া কঠিন। প্রতি ম্যাচেই তিনি নতুন কিছু করে দেখান।মেসির পারফরম্যান্সে মুগ্ধ ফুটবল বিশ্বের অন্য তারকারাও। নরওয়ের তারকা আর্লিং হালান্ড সামাজিক মাধ্যমে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে লিখেছেন, মেসি যেন অন্য গ্রহের ফুটবলার।বয়স প্রায় ঊনচল্লিশের দোরগোড়ায়। তবুও মাঠে তাঁর দাপট, গোল করার ক্ষুধা এবং আবেগ এখনও একই রকম। তাই আবারও প্রমাণ হল, ফুটবলের অভিধানে জাদুর আরেক নাম লিওনেল মেসি।

জুন ১৭, ২০২৬
খেলার দুনিয়া

মেসির জাদুতে বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার দুড়ন্ত সূচনা! হ্যাটট্রিক করে ছুঁলেন ক্লোজেকে, ইতিহাসের আরও কাছে লিও

বিশ্বকাপের মঞ্চে বয়স যেন শুধুই একটি সংখ্যা। ৩৯ ছুঁইছুঁই লিওনেল মেসি আবারও প্রমাণ করে দিলেন, বড় ম্যাচের নায়ক হওয়ার ক্ষমতা এখনও অটুট। আলজেরিয়ার বিরুদ্ধে দুর্দান্ত হ্যাটট্রিক করে আর্জেন্টিনাকে ৩-০ ব্যবধানে জয় এনে দিলেন অধিনায়ক। একই সঙ্গে বিশ্বকাপের ইতিহাসে সর্বাধিক গোলদাতাদের তালিকায় জার্মান কিংবদন্তি মিরোস্লাভ ক্লোজের পাশে নিজের নামও তুলে দিলেন তিনি।ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। তবে প্রথম দিকে কিছুটা প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিল আলজেরিয়া। নবম মিনিটে ফারেস চাইবির শট জালে জড়ালেও অফসাইডের কারণে গোল বাতিল হয়ে যায়। সেখান থেকেই যেন ম্যাচের মোড় ঘুরে যায়।এরপর নিজের চেনা ছন্দে দেখা যায় মেসিকে। বক্সের বাইরে থেকে বাঁ পায়ের শক্তিশালী শটে প্রথম গোলটি করেন তিনি। সেই শট ঠেকানোর সুযোগই পাননি আলজেরিয়ার গোলরক্ষক লুকা জিদান, যিনি ফরাসি কিংবদন্তি জিনেদিন জিদানের পুত্র।প্রথমার্ধে এক গোলের লিড নিয়ে বিরতিতে গেলেও দ্বিতীয়ার্ধে আরও ভয়ঙ্কর হয়ে ওঠে আর্জেন্টিনা। ম্যাচের ৬০ মিনিটে অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টারের জোরালো শট গোলকিপারের হাতে প্রতিহত হওয়ার পর ফিরতি বলে সহজেই জালে বল জড়িয়ে নিজের দ্বিতীয় গোলটি করেন মেসি।তবে আসল জাদু দেখা যায় ৭৬ মিনিটে। বক্সের ঠিক বাইরে থেকে নিচু শটে বল জালে পাঠিয়ে হ্যাটট্রিক সম্পূর্ণ করেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক। এই গোলের মাধ্যমে বিশ্বকাপে তাঁর মোট গোলসংখ্যা পৌঁছে যায় ১৬-তে, যা তাঁকে মিরোস্লাভ ক্লোজের সমতুল্য স্থানে পৌঁছে দেয়।হ্যাটট্রিকের তিন মিনিট পর কোচ তাঁকে মাঠ থেকে তুলে নেন। স্টেডিয়াম জুড়ে তখন দাঁড়িয়ে অভিবাদন জানাচ্ছেন সমর্থকেরা। যদিও মেসির মুখে কিছুটা হতাশার ছাপও ধরা পড়ে, কারণ তিনি আরও কিছুক্ষণ মাঠে থাকতে চেয়েছিলেন বলেই মনে হচ্ছিল। তবে আগামী ম্যাচগুলোর কথা মাথায় রেখেই তাঁকে বিশ্রাম দেওয়া হয়েছে বলে ধারণা।এই ম্যাচটি ছিল মেসির আন্তর্জাতিক কেরিয়ারের ২০০তম ম্যাচ। ২০০৫ সালে মাত্র ১৮ বছর বয়সে জাতীয় দলের হয়ে অভিষেক হয়েছিল তাঁর। আন্তর্জাতিক ফুটবলে এর চেয়ে বেশি ম্যাচ খেলেছেন শুধুমাত্র পর্তুগালের ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো এবং কুয়েতের বাদার আল-মুতাওয়া।বিশ্বকাপের আগে চোট নিয়ে কিছুটা উদ্বেগ থাকলেও মাঠে তার কোনও প্রভাব দেখা যায়নি। ইন্টার মায়ামির হয়ে মৌসুমের শেষ দিকে হ্যামস্ট্রিংয়ে সামান্য চোট পেয়েছিলেন মেসি। তবে আইসল্যান্ডের বিরুদ্ধে প্রস্তুতি ম্যাচে গোল করে তিনি আগেই নিজের ফিটনেসের বার্তা দিয়েছিলেন।এদিকে মেসির হ্যাটট্রিক কিছুটা আড়াল করে দিয়েছে বিশ্বফুটবলের আরও দুই তারকা কিলিয়ান এমবাপে ও আর্লিং হালান্ডের পারফরম্যান্সকেও। ফ্রান্সের হয়ে এমবাপে জোড়া গোল করেছেন সেনেগালের বিরুদ্ধে, অন্যদিকে নরওয়ের হয়ে ইরাকের বিরুদ্ধে দুই গোল করেছেন হালান্ড।বিশ্বকাপ অভিযান জয়ে শুরু করলেও আর্জেন্টিনার সামনে এখন আরও কঠিন পরীক্ষা। পরবর্তী ম্যাচে তাদের প্রতিপক্ষ অস্ট্রিয়া। তবে আলজেরিয়ার বিরুদ্ধে মেসির এই পারফরম্যান্স স্পষ্ট করে দিয়েছে শিরোপা ধরে রাখার লড়াইয়ে এখনও অন্যতম বড় দাবিদার আর্জেন্টিনা।

জুন ১৭, ২০২৬
খেলার দুনিয়া

মেসি-আয়োজন বিতর্কে বড় মোড়, অরূপ বিশ্বাসের বিরুদ্ধে এফআইআর; ‘সত্যের জয়’ দাবি উদ্যোক্তা শতদ্রু দত্তের

লিয়োনেল মেসির কলকাতা সফর ঘিরে বিতর্কের জেরে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে নতুন করে চাঞ্চল্য ছড়াল। রাজ্যের প্রাক্তন ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসের বিরুদ্ধে একাধিক গুরুতর ধারায় এফআইআর দায়ের করেছে বিধাননগর দক্ষিণ থানার পুলিশ। অভিযোগকারী তথা অনুষ্ঠানের অন্যতম উদ্যোক্তা শতদ্রু দত্ত নিজেই সমাজমাধ্যমে এফআইআরের কপি প্রকাশ করে বিষয়টি সামনে আনেন।ফেসবুকে দেওয়া পোস্টে শতদ্রু লেখেন, সত্যের জয় হয়েছে। প্রাক্তন ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করা হয়েছে। একই সঙ্গে তিনি রাজ্যের বর্তমান প্রশাসনের কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিকে ধন্যবাদও জানান। তাঁর দাবি, দীর্ঘদিনের অভিযোগের ভিত্তিতেই এই পদক্ষেপ করেছে পুলিশ।পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, অরূপ বিশ্বাসের বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার পাঁচটি পৃথক ধারায় মামলা রুজু হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে অভিন্ন উদ্দেশ্যে অপরাধ সংঘটনের অভিযোগ, তোলাবাজি, প্রতারণা, অপরাধমূলক ভীতি প্রদর্শন এবং অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রের মতো গুরুতর অভিযোগ।শতদ্রুর অভিযোগ, গত বছরের ১৩ ডিসেম্বর যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে অনুষ্ঠিত মেসি-সংক্রান্ত অনুষ্ঠানের আগে তাঁর উপর ব্যাপক চাপ সৃষ্টি করা হয়েছিল। অভিযোগ অনুযায়ী, অনুষ্ঠানের জন্য বিপুল সংখ্যক টিকিট দাবি করেছিলেন অরূপ বিশ্বাস। সেই দাবি পূরণ না করলে অনুষ্ঠান বাতিল করে দেওয়ার হুমকিও দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ। শুধু তাই নয়, প্রায় ২২ হাজার কমপ্লিমেন্টারি টিকিট নেওয়া হয়েছিল বলেও দাবি করেছেন শতদ্রু। পরে ওই টিকিটের একটি বড় অংশ কালোবাজারে বিক্রি করা হয় বলেও তাঁর অভিযোগ।মেসির কলকাতা সফর ঘিরে আয়োজিত অনুষ্ঠানটি শুরু থেকেই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল। কিন্তু অনুষ্ঠান চলাকালীন মাঠে প্রবেশাধিকার নিয়ে বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়। অভিযোগ, আমন্ত্রিত অতিথি, রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, মন্ত্রী, আমলা এবং তাঁদের ঘনিষ্ঠদের অতিরিক্ত উপস্থিতির কারণে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য অনুযায়ী, একসময় মাঠের ভিতরে ধাক্কাধাক্কির পরিবেশ তৈরি হয়। সেই পরিস্থিতিতে মেসির নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দেয়।ঘটনার সময় মেসির সঙ্গে থাকা উরুগুয়ের তারকা ফুটবলার লুইস সুয়ারেজ এবং আর্জেন্টিনার মিডফিল্ডার রদ্রিগো ডিপলও বিশৃঙ্খলার শিকার হন বলে অভিযোগ। নিরাপত্তার স্বার্থে শেষ পর্যন্ত মেসিকে দ্রুত মাঠের ওই অংশ থেকে সরিয়ে নিয়ে যান তাঁর ব্যক্তিগত নিরাপত্তারক্ষীরা।মাঠের বিশৃঙ্খলার রেশ পরে ছড়িয়ে পড়ে গ্যালারিতেও। ক্ষুব্ধ দর্শকদের একাংশ মাঠে নেমে পড়েন বলে অভিযোগ ওঠে। ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনাও সামনে আসে। এই ঘটনার জেরে বিধাননগর দক্ষিণ থানায় দুটি পৃথক মামলা দায়ের হয়েছিল। প্রথম মামলায় গ্রেফতার করা হয়েছিল অভিযোগকারী শতদ্রু দত্তকেই। অন্য মামলায় ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের অভিযোগে আরও কয়েকজনকে গ্রেফতার করা হয়।উল্লেখযোগ্যভাবে, গত ১৯ মে শতদ্রু দত্ত অরূপ বিশ্বাস, জুঁই বিশ্বাস, আইএএস আধিকারিক শান্তনু বসু, তৎকালীন ডিজি রাজীব কুমার-সহ একাধিক ব্যক্তির বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। তাঁর দাবি ছিল, প্রভাবশালী কয়েকজনের হস্তক্ষেপ এবং নিয়মবহির্ভূত প্রবেশের কারণেই বহু প্রতীক্ষিত অনুষ্ঠানটি কার্যত ভেস্তে যায়।মেসি-কাণ্ড নিয়ে বিতর্ক চরমে ওঠার পরেই অরূপ বিশ্বাস ক্রীড়ামন্ত্রীর দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ান। যদিও তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ নিয়ে তিনি অতীতে সরাসরি দায় স্বীকার করেননি।তদন্ত এগোনোর সঙ্গে সঙ্গে নতুন তথ্য সামনে আসতে পারে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। একই সঙ্গে প্রশ্ন উঠছে, আন্তর্জাতিক মানের একটি অনুষ্ঠানে নিরাপত্তা ও প্রবেশ নিয়ন্ত্রণে এত বড় গাফিলতি কীভাবে ঘটল এবং তার দায় শেষ পর্যন্ত কার কাঁধে বর্তাবে। আপাতত সেই উত্তর খুঁজতেই তদন্তকারীদের নজর মেসি-সফর সংক্রান্ত গোটা ঘটনাপ্রবাহের দিকে।

মে ৩১, ২০২৬
কলকাতা

হাওয়ায় দুলছে মেসির বিশাল মূর্তি! আতঙ্কে লেকটাউন, রাতেই ভাঙার সিদ্ধান্ত?

লেকটাউনে তৈরি হওয়া বিশাল লিওনেল মেসির মূর্তি ঘিরে এবার আতঙ্ক ছড়াল স্থানীয়দের মধ্যে। অভিযোগ, হাওয়ায় প্রবলভাবে দুলছে মূর্তিটি। যে কোনও সময় সেটি ভেঙে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন এলাকার বাসিন্দারা। পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে সোমবার ঘটনাস্থলে পৌঁছন পূর্ত দপ্তরের ইঞ্জিনিয়ার, সরকারি আধিকারিক এবং লেকটাউন থানার পুলিশ।স্থানীয়দের অভিযোগ, মূর্তিটির নীচের অংশের মাটি বসে গিয়েছে। চারপাশে পাথর ও মাটি বেরিয়ে এসেছে। ফলে গোটা কাঠামো দুর্বল হয়ে পড়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। হাওয়ায় মূর্তিটি দুলতে থাকায় আতঙ্ক আরও বেড়েছে।মূর্তিটির ঠিক নীচেই রয়েছে একটি জায়ান্ট স্ক্রিন। সন্ধ্যার সময় সেখানে ভিড় করেন বহু মানুষ। আইপিএলের ম্যাচ দেখার জন্য প্রতিদিনই জমায়েত হয় স্থানীয়দের বড় অংশ। সেই সময় যদি মূর্তিটি ভেঙে পড়ে, তাহলে বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন এলাকাবাসী।স্থানীয়দের অভিযোগের ভিত্তিতেই পুলিশ ও প্রশাসনের আধিকারিকরা সরেজমিনে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখেন। জানা গিয়েছে, দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার কথা ভাবা হচ্ছে। পরিস্থিতি বিচার করে সোমবার রাতেই মূর্তিটি ভেঙে ফেলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে বলে প্রশাসন সূত্রে খবর।উল্লেখ্য, গত বছরের ডিসেম্বর মাসে এই বিশাল মূর্তিটি তৈরি করা হয়েছিল। আর্জেন্টিনার বিশ্বজয়ী ফুটবলার লিওনেল মেসি কলকাতা সফরে এলে ভার্চুয়ালি এই মূর্তির উদ্বোধন করেছিলেন। সেই সময় তাঁর পাশে ছিলেন বিধাননগরের প্রাক্তন বিধায়ক ও প্রাক্তন দমকলমন্ত্রী সুজিত বসু। মূলত তাঁর উদ্যোগ ও তত্ত্বাবধানেই তৈরি হয়েছিল মূর্তিটি।

মে ২৫, ২০২৬
কলকাতা

মেসি-কাণ্ডে মানহানির অভিযোগ, লালবাজারে সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের এফআইআর

লিওনেল মেসিকে ঘিরে কলকাতার সাম্প্রতিক বিতর্কে এবার আইনি মোড়। প্রকাশ্যে মানহানিকর মন্তব্যের অভিযোগ তুলে কলকাতা পুলিশের সদর দফতর লালবাজারে এফআইআর দায়ের করলেন প্রাক্তন ভারতীয় ক্রিকেট দলের অধিনায়ক সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়। অভিযোগের আঙুল উঠেছে কলকাতার আর্জেন্টিনা ফ্যান ক্লাবের প্রধান তথা মেসি-ভক্ত উত্তম সাহার দিকে।সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের আইনজীবীর তরফে জানানো হয়েছে, যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে মেসিকে ঘিরে যে বিতর্কিত ঘটনার সূত্রপাত, তা নিয়ে সংবাদমাধ্যমে সৌরভের ভূমিকা সম্পর্কে একাধিক ভুল ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো হয়েছে। এই মন্তব্যগুলিকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও মানহানিকর বলেই দাবি করা হয়েছে অভিযোগে।সৌরভের পক্ষ থেকে স্পষ্ট করে জানানো হয়েছে, সংশ্লিষ্ট অনুষ্ঠানে তিনি শুধুমাত্র একজন আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবেই উপস্থিত ছিলেন। ইভেন্টের আয়োজন বা পরিচালনার সঙ্গে তাঁর কোনও রকম সাংগঠনিক যোগ ছিল না। অনুষ্ঠানের মূল আয়োজক ছিলেন শতদ্রু দত্ত। একই অনুষ্ঠানে অভিনেতা শাহরুখ খান-সহ অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তিরাও উপস্থিত ছিলেন বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, উত্তম সাহা প্রকাশ্যে সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়কে চিটিংবাজ বলে কটাক্ষ করেন, যা প্রাক্তন অধিনায়কের সামাজিক সম্মান ও দীর্ঘদিনের ভাবমূর্তিকে গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। এই কারণেই মানহানির নোটিস পাঠানোর পাশাপাশি লালবাজারে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।উল্লেখ্য, মেসিকে দেখার আশায় যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে হাজার হাজার দর্শক মোটা অঙ্কের টিকিট কেটেও শেষ পর্যন্ত হতাশ হন। সেই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতিতেও তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয় এবং তদন্ত কমিটি গঠিত হয়। ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস পদত্যাগ করেন। পুলিশ কর্তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত কমিটি গঠিত হয়েছে। একজন ডিসিপি সাসপেন্ড হয়েছে। এই আবহেই দেওয়া উত্তম সাহার মন্তব্যকে ঘিরে এবার আইনি পথে হাঁটলেন সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়।

ডিসেম্বর ১৯, ২০২৫
কলকাতা

মেসি বিতর্কে নীরবতা ভাঙলেন শুভশ্রী, সন্তানদের হুমকির পর ভিডিও বার্তা

লিওনেল মেসিকে দেখতে না পেয়ে শনিবার যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে যে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল, তার রেশ গিয়ে পড়ে নেটদুনিয়ায়ও। ঠিক সেই সময় মেসির সঙ্গে তোলা ছবি সামাজিক মাধ্যমে পোস্ট করায় তীব্র ট্রোলের মুখে পড়েন অভিনেত্রী শুভশ্রী গঙ্গোপাধ্যায়। টানা দুদিন এই বিষয়ে চুপ থাকলেও, সন্তানদের উদ্দেশে কুরুচিকর মন্তব্য ও হুমকি আসতে শুরু করায় শেষ পর্যন্ত ভিডিও বার্তায় মুখ খুললেন তিনি।ভিডিওতে শুভশ্রী স্পষ্ট ভাষায় জানান, যুবভারতীতে মেসিকে ঘিরে যে বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়েছিল, তার ব্যাখ্যা দিতেই তিনি কথা বলছেন। তিনি বলেন, গোটা অনুষ্ঠানে তিনি আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবেই হাজির ছিলেন। সিনে ইন্ডাস্ট্রির প্রতিনিধি হিসেবে কৌশিক গঙ্গোপাধ্যায়ের সঙ্গে তিনিও হায়াত হোটেলে আয়োজিত অনুষ্ঠানে যোগ দেন। সেখানে দেশের নানা ক্ষেত্রের বিশিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। আয়োজকদের তরফে জানানো হয়েছিল, মেসি সকলের সঙ্গে দেখা করবেন এবং ছবি তুলবেন।শুভশ্রী জানান, সেদিন সন্ধ্যা সাড়ে আটটা নাগাদ তিনি হায়াতে পৌঁছন এবং রাত দশটা পনেরো মিনিটের মধ্যে মেসির সঙ্গে তাঁর দেখা হয় ও ছবি তোলা হয়। সেখান থেকে বেরোনোর সময় আয়োজকদের পিআর টিম তাঁকে অনুরোধ করে যুবভারতীতে যাওয়ার জন্য, কারণ সেখানে নানা ব্যবস্থাপনার প্রয়োজন ছিল। কেন তাঁরই নাম বেছে নেওয়া হয়েছিল, সেই প্রশ্নের উত্তর পিআর টিমই দিতে পারবে বলে মন্তব্য করেন অভিনেত্রী। সম্মতি দেওয়ার পর তিনি যুবভারতীতে যান এবং একটি নির্দিষ্ট তাঁবুতে বসে মেসির জন্য অপেক্ষা করছিলেন।এই সময়েই তাঁর পিআর টিমের তরফে সামাজিক মাধ্যমে ছবিগুলি পোস্ট করা হয়। তবে শুভশ্রীর দাবি, পোস্টটি তাৎক্ষণিকভাবে হয়নি, কারণ ওই এলাকায় জ্যামার বসানো ছিল। রাত সাড়ে এগারোটা নাগাদ মেসি ক্রীড়াঙ্গনে ঢোকেন এবং তখনই পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। শুভশ্রী বলেন, তিনি নিজেও মেসিকে স্পষ্ট ভাবে দেখতে পাননি। উদ্যোক্তাদের গাফিলতির কারণেই একটি সুন্দর অনুষ্ঠান বিশৃঙ্খলায় পরিণত হয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি।এরপর শুটিংয়ের তাড়া থাকায় তিনি দ্রুত সেখান থেকে বেরিয়ে যান। বেরোনোর সময় ফোনে ব্যস্ত থাকায় ছবিগুলি পোস্ট হয়েছে কি না, তা খেয়ালও করেননি। অনেক পরে জানতে পারেন, যুবভারতীর ঘটনা বড় আকার নিয়েছে এবং কোনও না কোনও ভাবে তাঁর নামও সেই ঘটনার সঙ্গে জড়িয়ে পড়েছে। পরে ইনস্টাগ্রামে গিয়ে তিনি দেখেন, প্রযুক্তিগত সমস্যার কারণে তাঁর ছবিগুলি দেরিতে পোস্ট হলেও তা দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছে।এরপরই শুরু হয় ট্রোলিং। শুভশ্রী জানান, তাঁকে নিয়ে অকথ্য ভাষায় আক্রমণ করা হয়, এমনকি কেউ কেউ দাবি করেন, তাঁর কারণেই নাকি দর্শকরা মেসিকে দেখতে পাননি। এত কটূক্তির পরেও তিনি ছবিগুলি সরাননি। তিনি বলেন, মানুষ টাকা দিয়েও প্রিয় খেলোয়াড়কে দেখতে না পেরে কষ্ট পেয়েছেন, সেই যন্ত্রণা তিনি বোঝেন। তাই তাঁকে গালাগালি করে যদি কারও রাগ হালকা হয়, তিনি তা মেনে নিতে রাজি ছিলেন।কিন্তু পরিস্থিতি বদলে যায় যখন তাঁর দুই সন্তানকে লক্ষ্য করে আক্রমণ শুরু হয়। শুভশ্রী বলেন, বাচ্চাদের মেরে ফেলার হুমকি দেওয়া হচ্ছে। একজন মা হিসেবে এই বিষয়টি তিনি কোনওভাবেই মেনে নিতে পারেন না। সেই কারণেই তিনি বাধ্য হয়ে প্রকাশ্যে মুখ খুললেন।

ডিসেম্বর ১৫, ২০২৫
  • ‹
  • 1
  • 2
  • 3
  • ›

ট্রেন্ডিং

কলকাতা

পুজোর পাসে ৬০ কোটির অভিযোগ! রাত ১১টা পর্যন্ত ইন্দ্রনীলের বাড়িতে ইডি, এরপর কী?

প্রাক্তন মন্ত্রী তথা গায়ক ইন্দ্রনীল সেনের (Indranil Sen) কসবার বাড়িতে মঙ্গলবার দীর্ঘ সময় ধরে তল্লাশি চালাল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট। প্রায় সাড়ে ১৫ ঘণ্টা পর রাত ১১টা নাগাদ তদন্তকারীরা বাড়ি থেকে বেরিয়ে যান। এরপর বুধবার সকাল ১০টায় ইডির দপ্তরে ইন্দ্রনীল সেনকে তলব করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। অন্যদিকে, তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ইন্দ্রনীল (Indranil Sen) । অভিযোগের ভিত্তিতে আইনি পদক্ষেপের হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন তিনি।ইডি সূত্রে অভিযোগ, কলকাতার দুর্গাপুজোর পুজো পরিক্রমা বা প্রিভিউ শো-এর নামে ইউনেস্কোর নাম ও প্রতীক ব্যবহার করে প্রবেশপত্র বিক্রি করা হয়েছিল। সেই প্রবেশপত্রের মাধ্যমে প্রায় ৫০ থেকে ৬০ কোটি টাকার আর্থিক অনিয়ম হয়ে থাকতে পারে বলে তদন্তকারীদের দাবি। এই ঘটনায় ইন্দ্রনীল সেন এবং তাঁর স্ত্রী মধুছন্দা সেনের নামও উঠে এসেছে বলে ইডি সূত্রে জানা গিয়েছে (Indranil Sen) ।চলতি বছরের জুন মাসে এই সংক্রান্ত অভিযোগ বউবাজার থানায় দায়ের হয়েছিল। অভিযোগকারীর বক্তব্যের ভিত্তিতে পরে আর্থিক তছরূপের সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখা শুরু হয়। সেই মামলার সূত্র ধরেই মঙ্গলবার ইডি কলকাতার একাধিক জায়গায় একসঙ্গে তল্লাশি চালায়।ইন্দ্রনীল সেনের (Indranil Sen) কসবার বাড়ি ছাড়াও কলকাতার আরও কয়েকটি ঠিকানায় তদন্তকারীরা পৌঁছন। হিন্দুস্তান পার্ক এবং হাইল্যান্ড পার্কের ঠিকানাতেও তল্লাশি চালানো হয়। ইভেন্ট পরিচালনার সঙ্গে যুক্ত কয়েক জনের বাড়িতেও অভিযান চলে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে জানা গিয়েছে। সিঙ্গুরে ইন্দ্রনীল সেনের বাগানবাড়িতেও তদন্তকারীরা গিয়েছিলেন বলে খবর।প্রতিটি ঠিকানায় কেন্দ্রীয় বাহিনীর নিরাপত্তা ছিল। একাধিক দলে ভাগ হয়ে ইডির আধিকারিকেরা এই অভিযান চালান। তদন্তকারীদের মূল লক্ষ্য ছিল অভিযোগে উঠে আসা আর্থিক লেনদেন এবং পুজোর প্রবেশপত্র বিক্রির সঙ্গে যুক্ত নথি ও তথ্য খতিয়ে দেখা।এই অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছে মাস আর্ট নামে একটি সংগঠন। অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২১ সালে কলকাতার দুর্গাপুজো আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পাওয়ার পর ওই সংগঠনটি তৈরি হয়। সংগঠনটির তরফে নিজেদের ইউনেস্কোর সঙ্গে যুক্ত বা অনুমোদিত উদ্যোগ হিসেবে প্রচার করা হয়েছিল বলে অভিযোগ উঠেছে। সেই পরিচয় ব্যবহার করে পুজো পরিক্রমার জন্য চড়া দামে প্রবেশপত্র বিক্রি করা হত বলেও তদন্তকারীদের দাবি।ইন্দ্রনীল সেনের (Indranil Sen) স্ত্রী মধুছন্দা সেন ওই সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। তদন্তকারীরা মনে করছেন, পাস বিক্রি এবং ওই সংস্থার আর্থিক লেনদেনের সঙ্গে তাঁর ভূমিকা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। তবে এই অভিযোগগুলি এখনও তদন্তাধীন এবং আদালতে প্রমাণিত নয়।প্রাথমিক অভিযোগ অনুযায়ী, পুজোর প্রিভিউ শো বা পুজো পরিক্রমার নামে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে টাকা নেওয়া হয়েছিল। ইউনেস্কোর নাম ব্যবহার করে এই পাস বিক্রির অনুমতি আদৌ ছিল কি না, সেটিও তদন্তের অন্যতম বিষয়। বিভিন্ন প্রতিবেদনে পাসের মাধ্যমে বিপুল অঙ্কের টাকা সংগ্রহের অভিযোগের কথা উঠে এসেছে।ইন্দ্রনীল সেন অবশ্য শুরু থেকেই তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। মঙ্গলবার দীর্ঘ তল্লাশির পরও তিনি অভিযোগ মানেননি বলে জানা গিয়েছে। বরং প্রয়োজন হলে আইনি পথে যাওয়ার বার্তা দিয়েছেন তিনি।এখন বুধবার সকাল ১০টায় ইডির দপ্তরে হাজির হওয়ার পর ইন্দ্রনীল সেনকে কী কী বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়, সেদিকেই নজর রয়েছে। পুজোর প্রবেশপত্র বিক্রি, সংশ্লিষ্ট সংস্থার আর্থিক লেনদেন এবং অভিযোগে উঠে আসা টাকার অঙ্কসবই তদন্তের পরবর্তী পর্যায়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।ইডির মঙ্গলবারের তল্লাশিতে কী কী নথি বা তথ্য পাওয়া গেল, তা এখনও প্রকাশ্যে বিস্তারিত ভাবে জানানো হয়নি। তদন্ত এগোনোর সঙ্গে সঙ্গে অভিযোগের প্রকৃত চিত্র আরও স্পষ্ট হবে।

সেপ্টেম্বর ২৯, ২০২৬
কলকাতা

পুজোর মুখে চাকরি নিয়ে বড় আশ্বাস! বিকাশ ভবনের সামনে অবস্থান তুলে নিলেন ৩৭১৯ কম্পিউটার শিক্ষক

পুজোর মুখে চাকরি হারানোর আশঙ্কায় বিকাশ ভবনের সামনে অবস্থান শুরু করেছিলেন রাজ্যের সরকারি ও সরকার পোষিত স্কুলের চুক্তিভিত্তিক কম্পিউটার শিক্ষকরা। সোমবার থেকে শুরু হওয়া সেই অবস্থান ও বিক্ষোভ মঙ্গলবার পর্যন্ত চলে। পরে শিক্ষামন্ত্রী দীপক বর্মনের সঙ্গে দুই দফায় বৈঠকের পর আন্দোলন প্রত্যাহার করে নেন শিক্ষকদের সংগঠন আইসিটি ঐক্য মঞ্চ।বৈঠকে শিক্ষকদের একাধিক দাবি বিবেচনা করার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে বলে সংগঠনের তরফে জানানো হয়েছে। আপাতত যাতে চাকরিতে কোনও ছেদ না পড়ে, সেই ব্যবস্থা করার কথা বলা হয়েছে। টেন্ডারে নির্বাচিত সংস্থার অধীনেই ৩৭১৯ জন শিক্ষক কাজ চালিয়ে যাবেন বলে জানা গিয়েছে।শিক্ষকদের দাবি পূরণের জন্য শিক্ষামন্ত্রী ছমাস সময় চেয়েছেন বলেও জানা গিয়েছে। এই সময়ের মধ্যে সরকারের সঙ্গে সরাসরি চুক্তির মাধ্যমে শিক্ষকদের বেতন এবং অন্যান্য বিষয় শ্রম আইন মেনে কী ভাবে করা যায়, তা নিয়ে চেষ্টা করা হবে বলে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।সোমবার থেকেই একাধিক দাবি নিয়ে বিকাশ ভবনের সামনে অবস্থানে বসেছিলেন চুক্তিভিত্তিক কম্পিউটার শিক্ষকরা। রাতভর সেখানে বিক্ষোভ চলে। মঙ্গলবার সন্ধ্যা পর্যন্ত আন্দোলন অব্যাহত থাকার পর শিক্ষকদের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করেন শিক্ষামন্ত্রী। সেই বৈঠকের পরেই আপাতত আন্দোলন তুলে নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়।শিক্ষক রাহুল দাসের দাবি, প্রথম থেকে পঞ্চম পর্যায়ে নিযুক্ত প্রায় পাঁচ হাজার কম্পিউটার প্রশিক্ষকের সঙ্গে সরকারের যে ভাবে সরাসরি চুক্তি রয়েছে, একই ধরনের ব্যবস্থা তাঁদের ক্ষেত্রেও করার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। তবে শিক্ষামন্ত্রীর তরফে এই বক্তব্যের বিষয়ে প্রকাশ্যে কোনও মন্তব্য পাওয়া যায়নি।এই সমস্যার নেপথ্যে রয়েছে চুক্তি নিয়ে জটিলতা। ২০২২ সাল বা তার আশপাশের সময়ে বেসরকারি সংস্থার মাধ্যমে ৩৭১৯ জন কম্পিউটার শিক্ষককে পাঁচ বছরের চুক্তিতে নিয়োগ করা হয়েছিল বলে জানা গিয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী অনেকের চুক্তির মেয়াদ আরও কিছুদিন থাকার কথা থাকলেও, হঠাৎ ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে চুক্তি শেষ করার নোটিস দেওয়া হয়েছে বলে শিক্ষকদের অভিযোগ।শিক্ষকদের আরও অভিযোগ, আগের কয়েকটি পর্যায়ে নিযুক্ত কম্পিউটার প্রশিক্ষকদের দীর্ঘমেয়াদি কাজের সুযোগ দেওয়া হলেও ষষ্ঠ ও সপ্তম পর্যায়ের শিক্ষকদের ক্ষেত্রে সেই সুবিধা দেওয়া হয়নি। একই সঙ্গে সাম্প্রতিক সময়ে তাঁদের বেতন কমানোর অভিযোগও উঠেছে।চুক্তি শেষ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় শুধু শিক্ষক ও তাঁদের পরিবার নয়, স্কুল কর্তৃপক্ষও সমস্যায় পড়তে পারেন বলে শিক্ষক সংগঠনের দাবি। কারণ সরকারি বিভিন্ন ডিজিটাল শিক্ষা প্রকল্পে এই কম্পিউটার শিক্ষকদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।শিক্ষানুরাগী ঐক্য মঞ্চ-এর সাধারণ সম্পাদক কিংকর অধিকারী বলেন, কম্পিউটার শিক্ষকদের নিয়মিতকরণের ব্যবস্থা করা প্রয়োজন। তাঁর বক্তব্য, দীর্ঘদিন ধরে অনিশ্চয়তার মধ্যে কাজ করা কঠিন এবং স্কুলের কাজে এই শিক্ষকেরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।আপাতত শিক্ষকদের আন্দোলন প্রত্যাহার হলেও তাঁদের মূল দাবি পূরণ কতটা দ্রুত হয়, সেদিকেই নজর রয়েছে। বিশেষ করে সরাসরি সরকারি চুক্তি, বেতন কাঠামো এবং চাকরির নিশ্চয়তা নিয়ে আগামী ছমাসে কী সিদ্ধান্ত হয়, তা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

সেপ্টেম্বর ২৯, ২০২৬
দেশ

যশোভূমিতে ফিজিওথেরাপির মহামিলন: ১০ হাজারের মঞ্চে বাংলার গর্ব, সম্মানে IAP Bengal

২,০০০ কিলোমিটারের Physio Baton যাত্রা থেকে দিল্লির বর্ণাঢ্য মহাযাত্রাআন্তর্জাতিক সম্মেলনে উজ্জ্বল বাংলার উপস্থিতিনয়াদিল্লি: ফিজিওথেরাপির জগতে এক ঐতিহাসিক অধ্যায়ের সাক্ষী থাকল নয়াদিল্লির যশোভূমি কনভেনশন সেন্টার। ২৬ ও ২৭ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত World Physiotherapy Asia Western Pacific (AWP) Regional Conference 2026-এ দেশ-বিদেশের ফিজিওথেরাপি বিশেষজ্ঞ, শিক্ষক, গবেষক, ছাত্রছাত্রী ও পেশাজীবীদের মিলন ঘটল এক বিশাল আন্তর্জাতিক মঞ্চে। Fitness for Allএই বার্তাকে সামনে রেখে আয়োজিত সম্মেলনে ফিজিওথেরাপির ভবিষ্যৎ, আধুনিক চিকিৎসা-পদ্ধতি, গবেষণা, জনস্বাস্থ্য এবং পেশাগত বিকাশ নিয়ে হয় একাধিক আলোচনা।সম্মেলনের অন্যতম উল্লেখযোগ্য দিক ছিল ১০ হাজারেরও বেশি ফিজিওথেরাপিস্টের একসঙ্গে উপস্থিতি। এই বিপুল অংশগ্রহণকে World Record হিসেবে বিশেষভাবে তুলে ধরা হয়। ফলে সম্মেলনটি শুধু একটি পেশাগত অনুষ্ঠানেই সীমাবদ্ধ থাকেনি, বরং আন্তর্জাতিক ফিজিওথেরাপি জগতের একটি গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চে পরিণত হয়।বিশেষ সম্মান IAP Bengal Branch-এরএই আন্তর্জাতিক সম্মেলনে পশ্চিমবঙ্গের জন্য আসে আরও একটি উল্লেখযোগ্য স্বীকৃতি। IAP Bengal Branch-কে দেশের সেরা শাখা হিসেবে বিশেষ সম্মাননা প্রদান করা হয়। দীর্ঘদিন ধরে সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড, পেশাগত উন্নয়ন এবং ফিজিওথেরাপি সংক্রান্ত বিভিন্ন উদ্যোগের স্বীকৃতি হিসেবেই এই সম্মানকে দেখা হচ্ছে।দিল্লির আন্তর্জাতিক মঞ্চে বাংলার প্রতিনিধিদের হাতে এই সম্মান তুলে দেওয়ার মুহূর্তটি ছিল আবেগঘন। পশ্চিমবঙ্গের ফিজিওথেরাপি পেশাজীবীদের কাছে এটি নিঃসন্দেহে এক গর্বের মুহূর্ত হয়ে ওঠে।বর্ধমান থেকে শুরু Physio Baton-এর ঐতিহাসিক যাত্রাসম্মেলনের আগে বাংলার সঙ্গে এই আন্তর্জাতিক আয়োজনের যোগসূত্র আরও দৃঢ় করে Physio Baton বা মশাল যাত্রা। ২২ সেপ্টেম্বর বর্ধমানের ঐতিহাসিক কার্জন গেট হয়ে সেই মশাল যাত্রার সূচনা হয়।কার্জন গেটে Physio Baton-কে স্বাগত জানাতে উপস্থিত ছিলেন প্রায় ৭০ জন ফিজিওথেরাপিস্ট। তাঁদের মধ্যে ছিলেন ডাঃ সত্যেন ভট্টাচার্য, ডাঃ শুভেন্দু দ্বিবেদী (PT), ডাঃ আদিত্য পাল ডাঃ অতনু রায়, ডাঃ অনিন্দ দে (PT), ডাঃ শুকদেব মুখার্জী (PT)-সহ আরও অনেকে। উপস্থিত ছিলেন গোলাপবাগ ফিজিওথেরাপি কলেজের অধ্যক্ষ ডাঃ এম. এস. আনোয়ার (PT)।ঐতিহাসিক বর্ধমানের মাটি থেকে শুরু হয়ে প্রায় ২,০০০ কিলোমিটার সড়কপথ পেরিয়ে Physio Baton পৌঁছে যায় দিল্লিতে। এই দীর্ঘ যাত্রাপথে বিভিন্ন জেলা ও রাজ্যের ফিজিওথেরাপিস্টদের সঙ্গে যোগাযোগ, মতবিনিময় এবং পেশাগত সম্পর্ক গড়ে তোলার উদ্যোগও নেওয়া হয়।বাংলার ঐতিহ্য ধরা পড়ল দিল্লির মহাযাত্রায়দিল্লিতে পৌঁছনোর পর Physio Baton-কে কেন্দ্র করে আয়োজিত হয় বর্ণাঢ্য মহাযাত্রা। সেখানে বাংলার প্রতিনিধিরা নিজেদের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে সামনে তুলে ধরেন।পুরুষ প্রতিনিধিদের অনেকেই ধুতি-পাঞ্জাবি এবং মহিলা প্রতিনিধিরা শাড়ি পরে শোভাযাত্রায় অংশ নেন। পেশাগত পরিচয়ের পাশাপাশি বাংলার সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের এই উপস্থাপনা আন্তর্জাতিক মঞ্চে আলাদা মাত্রা যোগ করে।বর্ধমান থেকে শুরু হওয়া মশাল যাত্রার সেই ধারাবাহিকতা শেষ পর্যন্ত পৌঁছয় World Physiotherapy-এর সর্বোচ্চ আন্তর্জাতিক নেতৃত্বের মঞ্চে।ডাঃ রুচি ভার্শনে (PT) (Dr. Ruchi Varshney) এবং ডাঃ সঞ্জীব ঝা (PT) (Dr. Sanjeev Jha)-এর হাত ধরে Physio Baton তুলে দেওয়া হয় World Physiotherapy-এর President-এর হাতে। মুহূর্তটি উপস্থিত প্রতিনিধিদের মধ্যে বিশেষ আবেগ ও গর্বের সৃষ্টি করে।যাত্রার নেতৃত্বে ডাঃ কৌশিক মল্লিক (PT)এই দীর্ঘ ও তাৎপর্যপূর্ণ যাত্রার পরিকল্পনা, নেতৃত্ব এবং সমন্বয়ের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন ডাঃ কৌশিক মল্লিক (PT), Vice President, IAP West Bengal Branch।প্রায় ২,০০০ কিলোমিটারের এই সড়কযাত্রা শুধুমাত্র একটি মশাল বহনের কর্মসূচি ছিল না। পথে বিভিন্ন জেলা ও রাজ্যের ফিজিওথেরাপিস্টদের সঙ্গে যোগাযোগ, তাঁদের সঙ্গে মতবিনিময় এবং পেশাগত নেটওয়ার্ক আরও শক্তিশালী করার উদ্যোগও এই যাত্রার অন্যতম লক্ষ্য হয়ে ওঠে।ফলে Physio Baton-এর যাত্রা কার্যত বাংলার সঙ্গে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের ফিজিওথেরাপি পেশাজীবীদের মধ্যে একটি সংযোগের সেতু তৈরি করে।১৩টি হলে একসঙ্গে বৈজ্ঞানিক কর্মসূচি২৬ ও ২৭ সেপ্টেম্বর যশোভূমি কনভেনশন সেন্টারের বিশাল পরিসরে সম্মেলনের বিভিন্ন পর্ব পরিচালিত হয় ১৩টি হলে। একই সঙ্গে চলে একাধিক বৈজ্ঞানিক ও পেশাগত অধিবেশন।পেপার ও পোস্টার প্রেজেন্টেশন, বিশেষজ্ঞদের বক্তব্য, প্যানেল আলোচনা, কর্মশালা, ছাত্রছাত্রীদের বিভিন্ন কার্যক্রম এবং দেশ-বিদেশের বিশিষ্ট ফিজিওথেরাপিস্টদের অংশগ্রহণে সম্মেলন কার্যত পরিণত হয় জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের এক বিশাল প্ল্যাটফর্মে।এই আন্তর্জাতিক মঞ্চে বর্ধমানের ফিজিওথেরাপিস্ট ডাঃ সত্যেন ভট্টাচার্য (PT) ও বক্তা হিসেবে অংশ নেন। বাংলার একটি জেলা শহর থেকে উঠে এসে আন্তর্জাতিক সম্মেলনের বৈজ্ঞানিক অধিবেশনে বক্তব্য রাখার বিষয়টিও স্থানীয় পেশাজীবীদের কাছে বিশেষ তাৎপর্য বহন করে।শুধু চিকিৎসা ও গবেষণার ক্ষেত্রেই নয়, আধুনিক যোগাযোগ ব্যবস্থার গুরুত্ব উপলব্ধি করে কনটেন্ট ক্রিয়েটর, পডকাস্টার এবং ডিজিটাল মিডিয়ার জন্যও বিশেষ পরিসর রাখা হয় সম্মেলনে।ফিজিওথেরাপির গুরুত্ব তুলে ধরলেন দিল্লির মুখ্যমন্ত্রীসম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্তা। তাঁর বক্তব্যে আধুনিক স্বাস্থ্যব্যবস্থায় ফিজিওথেরাপির গুরুত্বের বিষয়টি উঠে আসে।এছাড়াও প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে ভিডিও বার্তা এবং কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রকের পক্ষ থেকেও ভিডিও বার্তা সম্মেলনে বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। এর ফলে ফিজিওথেরাপি যে শুধুমাত্র পুনর্বাসনমূলক চিকিৎসার একটি অংশ নয়, বরং বৃহত্তর জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গএই বার্তাটিও আন্তর্জাতিক মঞ্চে আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে।বাংলার জন্য একাধিক গর্বের মুহূর্তএকদিকে ১০ হাজারেরও বেশি ফিজিওথেরাপিস্টের ঐতিহাসিক উপস্থিতি, অন্যদিকে IAP Bengal Branch-এর বিশেষ সম্মাননা। তার সঙ্গে বর্ধমানের কার্জন গেট থেকে শুরু হওয়া Physio Baton-এর প্রায় ২,০০০ কিলোমিটারের যাত্রা এবং দিল্লির মহাযাত্রায় বাংলার ঐতিহ্যবাহী পোশাকে প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণসব মিলিয়ে সম্মেলনে বাংলার উপস্থিতি হয়ে ওঠে বিশেষভাবে স্মরণীয়।এই যাত্রা দেখিয়ে দিল, ফিজিওথেরাপি এখন আর শুধুমাত্র চিকিৎসাক্ষেত্রের একটি নির্দিষ্ট শাখার মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। গবেষণা, জনস্বাস্থ্য, ফিটনেস, পুনর্বাসন, প্রযুক্তি এবং সামাজিক সচেতনতার বৃহত্তর পরিসরে ফিজিওথেরাপির ভূমিকা ক্রমশ বিস্তৃত হচ্ছে।যশোভূমির আন্তর্জাতিক মঞ্চে সেই পরিবর্তনেরই প্রতিফলন দেখা গেল। আর সেই মঞ্চে বাংলার প্রতিনিধিত্ব, IAP Bengal Branch-এর স্বীকৃতি এবং বর্ধমান থেকে শুরু হওয়া Physio Baton-এর ঐতিহাসিক যাত্রা পশ্চিমবঙ্গের ফিজিওথেরাপি মহলের জন্য তৈরি করল এক স্মরণীয় অধ্যায়।বর্ধমানের কার্জন গেট থেকে দিল্লির যশোভূমিপ্রায় ২,০০০ কিলোমিটারের সেই যাত্রা তাই কেবল একটি মশাল বহনের গল্প নয়; এটি বাংলার ফিজিওথেরাপি পেশাজীবীদের ঐক্য, উদ্যোগ, পেশাগত সংযোগ এবং আন্তর্জাতিক মঞ্চে নিজেদের উপস্থিতি জানান দেওয়ার এক অনন্য কাহিনি।

সেপ্টেম্বর ২৯, ২০২৬
কলকাতা

রোজভ্যালির আমানতকারীদের টাকা কবে ফিরবে? হাই কোর্টের নির্দেশে সামনে এল নির্দিষ্ট সময়

রোজভ্যালি চিটফান্ড মামলায় আমানতকারীদের টাকা ফেরানোর প্রক্রিয়া নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করল কলকাতা হাই কোর্ট। দীর্ঘদিন ধরে টাকা ফেরানোর কাজ চললেও তার গতি যথেষ্ট নয় বলে আদালতের পর্যবেক্ষণ। এবার নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে আমানতকারীদের টাকা ফেরানোর নির্দেশ দিয়েছে ডিভিশন বেঞ্চ। একই সঙ্গে প্রতি মাসে কাজের অগ্রগতির হিসাব আদালতে জমা দিতে হবে।বিচারপতি রাজর্ষি ভরদ্বাজ এবং বিচারপতি সুদীপ দেবের ডিভিশন বেঞ্চ জানিয়েছে, রোজভ্যালির সম্পত্তি বিক্রি করে সেই অর্থ আমানতকারীদের মধ্যে বণ্টন করাই সম্পদ নিষ্পত্তি কমিটির মূল দায়িত্ব। এর বাইরে কমিটির কোনও অতিরিক্ত আইনি ক্ষমতা নেই। আদালতের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, কমিটির তত্ত্বাবধানে থাকা সহযোগী সংস্থা তৃতীয় পক্ষের সঙ্গে হোটেল পরিচালনার যে চুক্তি করেছিল, তার অনুমোদনের ক্ষমতা কমিটির ছিল না। ফলে ওই ধরনের অনুমোদনহীন চুক্তিগুলিকে শুরু থেকেই বাতিল বলে ঘোষণা করেছে আদালত।আমানতকারীদের পক্ষের আইনজীবীর দাবি, দীর্ঘ সময় ধরে কমিটির হাতে বিপুল সম্পত্তি থাকলেও সেই তুলনায় টাকা ফেরানোর কাজ খুব ধীর গতিতে হয়েছে। আদালতে যে তথ্য তুলে ধরা হয়েছে, তাতে প্রায় ৬০০ কোটি টাকার সম্পত্তির কথা বলা হয়েছে। তার মধ্যে মাত্র ৫৫ কোটি ৪৫ লক্ষ টাকা আমানতকারীদের মধ্যে বণ্টন করা হয়েছে বলে দাবি। গত ১১ বছরে মাত্র ১০টি সম্পত্তির নিলাম এবং ৮০টি সম্পত্তির মূল্যায়ন সম্পূর্ণ হয়েছে বলেও আদালতে জানানো হয়।অন্যদিকে, রোজভ্যালি সম্পদ নিষ্পত্তি কমিটির প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের শেষ দিক থেকে আমানতকারীদের টাকা ফেরানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। ২০২৬ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত একাধিক দফায় এক লক্ষেরও বেশি দাবিদারকে টাকা দেওয়া হয়েছে এবং প্রায় ৩২ লক্ষ দাবি নথিভুক্ত হয়েছিল। ফলে আগের বছরগুলিতে কাজের গতি নিয়ে যে প্রশ্ন উঠেছে, তার পাশাপাশি সাম্প্রতিক সময়ে শুরু হওয়া টাকা ফেরানোর প্রক্রিয়াটিও আদালতের নজরে রয়েছে।হাই কোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ১৫ নভেম্বরের মধ্যে অ্যাকাউন্টে থাকা প্রায় ৫৫০ কোটি টাকা মুলতুবি থাকা দাবিগুলির ভিত্তিতে যোগ্য আমানতকারীদের মধ্যে বণ্টনের ব্যবস্থা করতে হবে। আদালতের নির্দেশে ৩২ লক্ষ ৪৩ হাজার ২২০টি মুলতুবি দাবির কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। এরপর ২০২৭ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে বাকি সম্পত্তি বিক্রি এবং সেই অর্থ আমানতকারীদের মধ্যে বণ্টনের কাজ শেষ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।শুধু সময়সীমা বেঁধে দিয়েই থামেনি আদালত। প্রতি মাসে সম্পদ নিষ্পত্তি কমিটিকে আদালতে কাজের অগ্রগতির রিপোর্ট জমা দিতে হবে। অর্থাৎ কতগুলি সম্পত্তি বিক্রি হল, কত টাকা বণ্টন করা হল এবং কতগুলি দাবি এখনও বাকি রয়েছে, সেই সংক্রান্ত অগ্রগতির হিসাব আদালতের নজরে থাকবে।আদালত আরও জানিয়েছে, নির্ধারিত সময়সীমার পরেও যদি কাজ বাকি থাকে, তা হলে অবশিষ্ট সম্পত্তি, অর্থ এবং অন্যান্য অসম্পূর্ণ বিষয় বিচারপতি এস পি তালুকদারের নেতৃত্বাধীন এক সদস্যের কমিটির হাতে তুলে দেওয়া হবে। অর্থাৎ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ না হলে সম্পূর্ণ প্রক্রিয়ায় নতুন ব্যবস্থা কার্যকর হতে পারে।রোজভ্যালি মামলায় জালিয়াতির অভিযোগের তদন্ত এবং সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার প্রক্রিয়ায় এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটও যুক্ত রয়েছে। এবার বাজেয়াপ্ত না হওয়া বাকি সম্পত্তি চিহ্নিত করে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে ইডিকে নির্দেশ দিয়েছে ডিভিশন বেঞ্চ। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, তদন্তে চিহ্নিত নতুন সম্পত্তির বিষয়ে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে হবে।এ ছাড়া সিরিয়াস ফ্রড ইনভেস্টিগেশন অফিসকে ২০২৬ সালের ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে ফরেনসিক অডিট শেষ করে রিপোর্ট জমা দিতে বলা হয়েছে। এর ফলে রোজভ্যালির সম্পত্তি, আর্থিক লেনদেন এবং টাকা ফেরানোর প্রক্রিয়ায় আরও নজরদারি বাড়তে চলেছে।রোজভ্যালি মামলায় দীর্ঘদিন ধরে টাকা ফেরানোর অপেক্ষায় রয়েছেন বহু আমানতকারী। আদালতের এই নির্দেশে এবার নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে টাকা ফেরানোর প্রক্রিয়া শেষ করার উপর জোর দেওয়া হয়েছে। আগামী কয়েক মাসে সম্পত্তি বিক্রি, দাবির যাচাই এবং টাকা বণ্টনের কাজ কতটা দ্রুত এগোয়, এখন সেদিকেই নজর থাকবে।

সেপ্টেম্বর ২৯, ২০২৬
খেলার দুনিয়া

হাসপাতাল থেকে সরাসরি এশিয়ান গেমস! বৃষ্টির মধ্যেই সোনা জিতে ইতিহাস নীরুর

এই কাহিনী শুনলে যে কারও মন ভালো হতে বাধ্য। লক্ষ্য যদি অবিচল থাকে তাহলে যে কোনও কঠিন পরিস্থিতি আসুক না কেন, কেউ তাঁকে হারাতে পারবে না। এশিয়ান গেমসে সোনা জেতার মাত্র ১০ দিন আগেও তাঁর কেরিয়ার নিয়ে তৈরি হয়েছিল বড় অনিশ্চয়তা। হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন ভারতীয় ট্র্যাপ শুটার নীরু ধান্ডা। সংক্রমণের কারণে শারীরিক অবস্থা এতটাই খারাপ হয়েছিল যে, জাপানের নাগোয়ায় এশিয়ান গেমসে আদৌ অংশ নিতে পারবেন কি না, তা নিয়েই সংশয় তৈরি হয়েছিল। কিন্তু সেই অসুস্থতাকেই পিছনে ফেলে মঙ্গলবার ইতিহাস গড়লেন ২৬ বছরের এই ভারতীয় শুটার।জাপানের গ্রামীণ টয়োটার উরেনোচো শুটিং রেঞ্জে প্রবল বৃষ্টির মধ্যেই ট্র্যাপ শুটিংয়ের ফাইনালে ৩০টির মধ্যে ২৮টি লক্ষ্যভেদ করেন নীরু। এর ফলে এশিয়ান গেমসের নতুন রেকর্ড গড়ে সোনা জেতেন তিনি। চিনের সুন ইউনং ২৬টি লক্ষ্যভেদ করে রুপো পান। এশিয়ান গেমসে এটিই ভারতের পঞ্চম সোনা। তবে নীরুর সাফল্যের গুরুত্ব শুধু পদকের হিসাবেই নয়। এশিয়ান গেমসের ইতিহাসে এই প্রথম কোনও ভারতীয় মহিলা ট্র্যাপ শুটিংয়ে ব্যক্তিগত সোনা জিতলেন। একইসঙ্গে ১৯৭৮ সালের পর এই ইভেন্টে কোনও ভারতীয় শুটারের ব্যক্তিগত সোনার অপেক্ষাও শেষ হল। ১৯৭৮ সালে রণধীর সিং ট্র্যাপ শুটিংয়ে সোনা জিতেছিলেন।এই সাফল্যের নেপথ্যে ছিল কঠিন এক প্রত্যাবর্তনের গল্প। নয়াদিল্লিতে জাতীয় শিবিরে প্রায় সাড়ে তিন সপ্তাহ অনুশীলন করতে পারেননি নীরু। অসুস্থতার সময় টানা পাঁচ দিন খাবারও খাননি, শুধু জল খেয়ে ছিলেন। হাসপাতালেও তিন দিন কাটাতে হয় তাঁকে। এই কঠিন সময়ে পাশে ছিলেন তাঁর কোচ অর্জুন পুরস্কারপ্রাপ্ত মনশের সিং। প্রতিদিন ফোন করে নীরুকে মানসিকভাবে চাঙ্গা রাখতেন তিনি। নীরুর কথায়, কোচ তাঁকে বলতেন কয়েক দিন অনুশীলন না করলেও কিছু যায় আসে না, তিনি প্রতিভাবান এবং তারকা হয়েই থাকবেন। প্রাক্তন সাংসদ তথা ক্রীড়ামন্ত্রী যশোধরা রাজের কাছ থেকেও সমর্থনের বার্তা পেয়েছিলেন নীরু।ভারতের ট্র্যাপ শুটিং কোচ পিটার উইলসন জানান, হাসপাতালে থাকার মাত্র ১০ দিনের মধ্যেই নীরু প্রতিযোগিতায় নেমেছেন। সাড়ে তিন সপ্তাহ অনুশীলন না করেও জাপানে মাত্র দুদিন শুটিং করে ফাইনালে সাফল্য পেয়েছেন তিনি। নীরুর শুটিংয়ে আসার গল্পও বেশ চমকপ্রদ। ২০১৮ সালের এশিয়ান গেমসে তাঁর খুড়তুতো ভাই লক্ষ্য শেওরান ট্র্যাপ শুটিংয়ে রুপো জেতার পর এই খেলায় আগ্রহী হন তিনি। পরে ভোপালের মধ্যপ্রদেশ স্টেট শুটিং অ্যাকাডেমিতে প্রশিক্ষণ শুরু করেন।গত বছর এশিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপে সোনা এবং চলতি বছরের জুলাইয়ে ISSF বিশ্বকাপে ব্যক্তিগত ট্র্যাপ সোনা জেতার পর এবার এশিয়ান গেমসেও সাফল্য পেলেন নীরু। তার উপর মঙ্গলবার ছিল প্রবল বৃষ্টি। বৃষ্টির জল শুটারদের হাতে পড়ছিল, মনোযোগও নষ্ট হচ্ছিল। কিন্তু নিজেকে বারবার প্রক্রিয়ায় ফিরিয়ে এনে লক্ষ্যভেদ করেন নীরু। হাসপাতালের বিছানা থেকে এশিয়ান গেমসের মঞ্চ, এই অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তনের শেষে তাঁর হাতেই উঠল ঐতিহাসিক সোনা।

সেপ্টেম্বর ২৯, ২০২৬
রাজ্য

জেএমবি-যোগের সন্দেহে মঙ্গলকোটের মসজিদের ইমামকে গ্রেপ্তার এনআইএ-র, বাজেয়াপ্ত ডায়েরি ও মোবাইল

পূর্ব বর্ধমানের মঙ্গলকোটে মসজিদের ইমামকে গ্রেপ্তার করল জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা (NIA)। বাংলাদেশের নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন জামাতুল মুজাহিদিন বাংলাদেশ (JMB)-এর সঙ্গে যোগাযোগ রাখার সন্দেহেই পালিশ গ্রামের পূর্বপাড়ার মসজিদের ইমাম পিয়ার মোহাম্মদকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। মঙ্গলবার ভোরে মঙ্গলকোট থানার পুলিশকে সঙ্গে নিয়ে মসজিদে অভিযান চালায় এনআইএ। সেখান থেকেই তাঁকে হেফাজতে নেওয়া হয়।পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, পিয়ার মোহাম্মদের বাড়ি পূর্ব বর্ধমানের মন্তেশ্বর থানার কুলুট গ্রামে। গত প্রায় তিন-চার বছর ধরে তিনি মঙ্গলকোটের পালিশ গ্রামের পূর্বপাড়ার মসজিদে ইমামের দায়িত্ব পালন করছিলেন। তদন্তকারীরা তাঁর পাসপোর্ট পরীক্ষা করে জানতে পেরেছেন, একাধিকবার বাংলাদেশে গিয়েছেন তিনি।এনআইএ সূত্রে খবর, মসজিদে ইমাম থাকার জন্য যে ঘরটি পিয়ার মোহামদ ব্যবহার করতেন, সেখান থেকে একটি ডায়েরি এবং মোবাইল ফোন বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। ওই ডায়েরিতে বাংলাদেশের কয়েকজনের ফোন নম্বর পাওয়া গিয়েছে বলেও তদন্তকারী সূত্রে দাবি করা হয়েছে। এই যোগাযোগগুলির সঙ্গে জঙ্গি সংগঠনের কোনও যোগ রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।চলতি বছরের জুন মাসে পশ্চিমবঙ্গ এবং উত্তর-পূর্ব ভারতকেন্দ্রিক কথিত সন্ত্রাসবাদী ষড়যন্ত্রের মামলায় ১১ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট পেশ করেছিল এনআইএ। সেই মামলার তদন্তের সূত্র ধরেই পিয়ার মোহাম্মদের নাম তদন্তকারীদের নজরে আসে বলে জানা গিয়েছে। মঙ্গলবার তাঁকে প্রথমে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। পরে গ্রেপ্তার করা হয়।তদন্তকারী সংস্থার সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, তাবলিগ জামাতের কাজে বৈধভাবে প্রায় ৪০ দিন বাংলাদেশে ছিলেন পিয়ার মোহাম্মদ। তবে সেই সফরের সময়ে তিনি জেএমবির কোনও সদস্যের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন কি না, কোনও বৈঠকে অংশ নিয়েছিলেন কি না, কিংবা বাংলাদেশের কোনও জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে তাঁর আদৌ কোনও সম্পর্ক রয়েছে কি না, এই সব বিষয় খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।পিয়ার মোহাম্মদের সঙ্গে আরও কারও যোগাযোগ ছিল কি না, তাঁর মাধ্যমে কোনও বৃহত্তর জঙ্গি নেটওয়ার্কের সন্ধান পাওয়া যায় কি না, সেই বিষয়েও তদন্ত চালাচ্ছে এনআইএ ও স্থানীয় পুলিশ।ইমামকে জঙ্গি-যোগের সন্দেহে গ্রেপ্তারের খবর ছড়িয়ে পড়তেই পালিশ গ্রামে চাঞ্চল্য দেখা দেয়। স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দার দাবি, পিয়ার মোহাম্মদকে তাঁরা বরাবরই শান্ত এবং সাধারণ স্বভাবের মানুষ হিসেবেই জানতেন। ফলে তাঁর গ্রেপ্তারের খবর তাঁদের বিস্মিত করেছে।এদিকে মঙ্গলবার দুপুরে ধৃত ইমামকে নিয়ে কলকাতার উদ্দেশে রওনা দেয় এনআইএ। তাঁকে কলকাতার ব্যাঙ্কশাল আদালতে পেশ করা হতে পারে বলে সূত্রের খবর।পিয়ার মোহাম্মদের আইনজীবী কাজি সাহাবাব জামান জানিয়েছেন, টেলিগ্রাম অ্যাপের মাধ্যমে নিষিদ্ধ সংগঠনের সঙ্গে বার্তালাপের অভিযোগে তাঁর মক্কেলকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে তাঁর মক্কেল নির্দোষ বলে দাবি করেছেন আইনজীবী।

সেপ্টেম্বর ২৯, ২০২৬
দেশ

২৭০০ থেকে ২৭ হাজার! ক্যানসারের ওষুধে দশ গুণ দাম দেখে সুপ্রিম কোর্টে তোলপাড়

ক্যানসারের মতো গুরুতর রোগের চিকিৎসায় ওষুধের খরচ নিয়ে বড় প্রশ্ন তুলেছে সুপ্রিম কোর্ট। একটি ক্যানসারের ওষুধ প্রস্তুতকারক সংস্থা খুচরো বিক্রেতাকে যে দামে ওষুধ দিচ্ছে, তার তুলনায় সর্বোচ্চ খুচরো দামের ব্যবধান দশ গুণ পর্যন্ত হতে পারেএমন তথ্য শুনানিতে উঠে আসে। উদাহরণ হিসেবে আদালত জানতে পারে, ২৭০০ টাকায় খুচরো বিক্রেতার কাছে পৌঁছনো একটি ওষুধের সর্বোচ্চ খুচরো দাম ২৭ হাজার টাকা। এই বিপুল ব্যবধান নিয়ে কেন্দ্রের কাছে জবাব চেয়েছে শীর্ষ আদালত।বিচারপতি বিক্রম নাথ এবং বিচারপতি সন্দীপ মেহতার বেঞ্চ ওষুধের মূল্যনিয়ন্ত্রণ, জেনেরিক ওষুধের ব্যবহার এবং চিকিৎসা সরঞ্জামের দাম সংক্রান্ত মামলার শুনানি করছিল। সেখানেই ক্যানসারের ওষুধের দামে খুচরো বিক্রেতার জন্য নির্ধারিত দাম এবং রোগীর জন্য নির্ধারিত সর্বোচ্চ খুচরো দামের মধ্যে এত বড় ফারাক নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। আদালত জানতে চায়, ২৭০০ টাকায় যে ওষুধ বিক্রেতার কাছে যাচ্ছে, সেটির সর্বোচ্চ খুচরো দাম কেন ২৭ হাজার টাকা হবে।আদালতের প্রশ্ন ছিল, এই অতিরিক্ত টাকার বড় অংশ কোথায় যাচ্ছে এবং এর ফলে কারা লাভবান হচ্ছে। বিচারপতিরা এমন দামের ব্যবধানকে রোগীদের উপর গুরুতর আর্থিক চাপ হিসেবে দেখেছেন। বিশেষ করে ক্যানসারের মতো রোগে চিকিৎসা দীর্ঘমেয়াদি হওয়ায় ওষুধের দাম বেড়ে গেলে তার সরাসরি প্রভাব পড়ে রোগী এবং পরিবারের উপর।শীর্ষ আদালত বেসরকারি হাসপাতালের ওষুধ বিক্রির ব্যবস্থাও খতিয়ে দেখেছে। শুনানিতে এমন অভিযোগের প্রসঙ্গ ওঠে যে, কিছু কর্পোরেট হাসপাতাল রোগীদের নিজেদের ফার্মেসি থেকে ওষুধ কিনতে বাধ্য করে। বাইরে থেকে একই ওষুধ কিনে আনলে চিকিৎসা নিয়ে সমস্যার আশঙ্কাও রোগীদের সামনে থাকে বলে আদালতে বিষয়টি উঠে আসে।সরকারি স্বাস্থ্য প্রকল্পের আওতায় চিকিৎসার ক্ষেত্রেও ওষুধের বাড়তি দাম নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে আদালত। কারণ কোনও সরকারি প্রকল্পে চিকিৎসা বা ওষুধের খরচ বেশি হলে শেষ পর্যন্ত সেই ব্যয়ের একটা অংশ সরকারি অর্থ থেকে মেটানো হয়। ফলে এর আর্থিক প্রভাব সাধারণ মানুষের উপরও পড়তে পারে বলে আদালত পর্যবেক্ষণ করেছে।শুনানিতে ওষুধকে অত্যাবশ্যকীয় এবং অনত্যাবশ্যকীয়এই ভাগ করে আলাদা নিয়ম রাখার যৌক্তিকতা নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। বিচারপতিরা জানতে চান, সব ধরনের ওষুধের ক্ষেত্রেই কি নির্দিষ্ট হারে লভ্যাংশের সীমা বেঁধে দেওয়া যায় না। আদালতের তরফে ১৬ শতাংশ লভ্যাংশের সীমার কথাও আলোচনায় আসে।কেন্দ্রের পক্ষে সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা জানান, বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের সঙ্গে আলোচনা করে সরকারের অবস্থান আদালতকে জানানো হবে। কেন্দ্র আরও সময় চেয়েছে বলেও সাম্প্রতিক শুনানির প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। মামলাটির পরবর্তী শুনানি ১২ অক্টোবর হওয়ার কথা।তবে ১৬ শতাংশ লভ্যাংশের সীমা এখনই কার্যকর কোনও নতুন নিয়ম নয়। এটি শুনানির সময় সুপ্রিম কোর্টের উত্থাপিত একটি প্রস্তাব বা প্রশ্ন। কেন্দ্রের সঙ্গে আলোচনার পর এ বিষয়ে কী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে, তা এখনও স্পষ্ট নয়।ক্যানসারের ওষুধের দাম নিয়ে এই শুনানি তাই রোগীদের চিকিৎসার খরচ, ওষুধের মূল্যনিয়ন্ত্রণ এবং হাসপাতালের ওষুধ বিক্রির পদ্ধতিতিনটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়কেই সামনে এনেছে। এখন কেন্দ্রের বক্তব্য এবং পরবর্তী শুনানিতে সুপ্রিম কোর্টের অবস্থানের দিকে নজর রয়েছে।

সেপ্টেম্বর ২৯, ২০২৬
দেশ

সহকর্মীদের লক্ষ্য করে গুলি! কাঠুয়ায় সিআইএসএফ শিবিরে ভয়াবহ ঘটনায় মৃত্যু ৪ জওয়ানের

জম্মু ও কাশ্মীরের কাঠুয়ায় সিআইএসএফের একটি শিবিরে ভয়াবহ গুলিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার ডিউটি পরিবর্তনের সময় বচসার পর এক সহকর্মী কয়েকজন জওয়ানকে লক্ষ্য করে গুলি চালিয়েছেন বলে অভিযোগ। ঘটনায় চার সিআইএসএফ জওয়ানের মৃত্যু হয়েছে। অভিযুক্ত জওয়ানকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।সিআইএসএফ সূত্রে খবর, বিকেলে ডিউটি পরিবর্তনের সময় হেড কনস্টেবল অবধেশ সিংয়ের সঙ্গে কয়েকজন জওয়ানের বচসা হয়। প্রথমে বিষয়টি কথা কাটাকাটির মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল বলে জানা গিয়েছে। পরে সেই বচসা বড় আকার নেয়।অভিযোগ, এক পর্যায়ে অবধেশ সিং নিজের রাইফেল তুলে সহকর্মীদের লক্ষ্য করে গুলি চালান। গুলিতে চার জওয়ান গুরুতর আহত হন। তাঁদের দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। তবে চিকিৎসাধীন অবস্থায় চারজনেরই মৃত্যু হয়।নিহত জওয়ানদের মধ্যে রয়েছেন সহকারী কমান্ড্যান্ট অঙ্কিত কুমার পাণ্ডে, সাব-ইন্সপেক্টর লক্ষ্মণ সিং, কনস্টেবল সঞ্জীব কুমার এবং কনস্টেবল মহম্মদ রফিক।ঘটনার পর কাঠুয়া সিআইএসএফ শিবিরে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়ায়। কী কারণে ডিউটি পরিবর্তনের সময় বচসা শুরু হয়েছিল এবং কী পরিস্থিতিতে গুলি চালানোর ঘটনা ঘটল, তা এখনও স্পষ্ট নয়।ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে। সিআইএসএফ সদর দপ্তরের তরফে তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। পাশাপাশি সিআইএসএফের মহাপরিচালক গোটা পরিস্থিতি এবং তদন্তের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করছেন।অভিযুক্ত জওয়ানকে গ্রেফতার করার পর তাঁর বিরুদ্ধে কী পদক্ষেপ করা হবে এবং ঘটনার প্রকৃত কারণ কী, তা তদন্তের পরই স্পষ্ট হবে। চার সহকর্মীর মৃত্যুর ঘটনায় কাঠুয়া সিআইএসএফ শিবিরে এখন তদন্তের পাশাপাশি নিরাপত্তা ব্যবস্থাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

সেপ্টেম্বর ২৯, ২০২৬

Ads

You May Like

Gallery

265-year-old "Mukhopadhyay House" in Bhavanandpur, Kalnar, played vermilion on Dasami during Durga Puja
BJP candidate Locket Chatterjee campaigned on the banks of the Ganges from Chandannagar Ranighat to Triveni Ghat wishing New Year.
A living depiction of history with a touch of color, everyone is enthralled by the initiative of the Eastern Railway
Sucharita Biswas actress and model on Durga Puja
Lord Kalabau came up in palanquin; Navapatrika walked towards the mandap - the puja started
On Sunday, the 'Hilsa festival' is celebrated in the city with great joy.
Check out who has joined Mamata's new cabinet
Take a look at the list of recipients at the Bangabibhushan award ceremony
If you are grassroots, you will get ration for free. Lakshmi Bhandar, Kanyashree, Swastha Sathi, Krishakbandhu, Oikyashree, Sabujsathi — you will get all.

Categories

  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও

Company

  • About Us
  • Advertise
  • Privacy
  • Terms of Use
  • Contact Us
Copyright © 2026 Janatar Katha News Portal